Refinance Scheme for Pre-Shipment Credit to Mitigate the Crisis due to Novel Corona Virus. Ref: BRPD Circular No. 09 dated 13-Apr-2020.

Website: www.bb.org.bd

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ
বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধান কার্যালয়
ঢাকা।

বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং- ০৯ এপ্রিল ১৩, ২০২০
তারিখ :————–
চৈত্র ৩০, ১৪২৬

ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী
বাংলাদেশ কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক।

প্রিয় মহোদয়,

নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কীম।

নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারীর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী রপ্তানী বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের ন্যায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ব্যহত হচ্ছে।

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রেখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৫০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। উক্ত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

১। শিরোনামঃ প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কীম।

২। তহবিলের পরিমাণ ও উৎসঃ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকা; বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।

৩। খাতঃ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রপ্তানিমুখী শিল্পে শুধুমাত্র প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে এ ঋণ বিতরণ করা যাবে।

৪। অংশগ্রহণকারীঃ বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক উক্ত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধা গ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে আগ্রহী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের সাথে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি (Participation Agreement) সম্পাদন করতে হবে।

৫। তহবিল ব্যবস্থাপনাঃ এ তহবিলের সামগ্রিক তদারকি/পরিচালনা/ব্যবস্থাপনার কাজ বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয় এর সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় শর্ত/বিধি অনুসরণের নির্দেশ দিতে পারবে।

৬। তহবিল মেয়াদঃ এ স্কীমের মেয়াদ হবে ০৩ (তিন) বছর। উক্ত সময়ের মধ্যে তহবিলটি আবর্তনযোগ্য (Revolving)।

৭। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতাঃ
ক) যে কোন খাতের রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য উক্ত তহবিল উন্মুক্ত থাকবে;
খ) ঋণ বিতরণের বিষয়টি ব্যাংক বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণপুর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করবে;
গ) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ অনুসারে কোন খেলাপী গ্রাহক বা গ্রাহক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করা যাবে না;
ঘ) কোন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানিমূল্যের প্রত্যাবসন [Guidelines for Foreign Exchange Transactions (GFET) কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত] ওভারডিউ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুকুলে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বিবেচ্য হবে না।

৮। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হার ও অন্যান্য চার্জেসঃ
ক) গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬%।
খ) বাংলাদেশ ব্যাংকের শিডিউল অব চার্জেস সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালার বাইরে গ্রাহকের নিকট হতে কোন ধরনের চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

৯। ব্যাংক পর্যায়ে সুদ হারঃ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংকসমূহ কর্তৃক গৃহীত পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার ওপর ৩% হারে সুদ আরোপ করা হবে।

১০। প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট এর বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন পরিমাণঃ
ক) অংশগ্রহণকারী ব্যাংক প্রতিটি নিশ্চিত রপ্তানি আদেশ/রপ্তানি ঋণপত্রের (Firm Export Contract/ Authinticated Export Credit) মূল্য হতে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের মূল্য, এক্সেসরিজ এর জন্য অর্থায়ন বাবদ অর্থ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য অর্থায়ন বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মূল্যের উপর স্বীয় নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট প্রদান করবে। তবে প্রতি জাহাজীকরণকৃত Consignment তথা রপ্তানিমূল্যের (Commercial Invoice Value) সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বিবেচ্য হবে;

খ) অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কর্তৃক রপ্তানি পণ্য সম্পূর্ণরুপে প্রস্তুতকরণ নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে জাহাজীকরণের প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট প্রদান করা যাবে। তবে, সংশ্লিষ্ট পণ্য জাহাজীকরণের পরই কেবল আলোচ্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার দাবী বিবেচ্য হবে;

গ) পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মর্মে গণ্য হবে।

১১। ঋণের মেয়াদঃ একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ০১ (এক) বছর উক্ত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় একাধিকবার বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ বিতরণ করা যাবে। কোন নির্দিষ্ট গ্রাহককে তহবিল হতে ০১ (এক) বছরের বেশি ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ যাই কোন কেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট Consignment এর জাহাজীকরণ তারিখের উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১২০ দিন (চার মাস) মেয়াদে উক্ত অর্থ অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে পুনঃঅর্থায়ন করা হবে যা মেয়াদ শেষে সুদসহ এককালীন পরিশোধযোগ্য হবে। তবে, বিশেষ ক্ষেত্রে বা বিশেষ কোন কারণে রপ্তানিমূল্য প্রাপ্তিতে বিলম্ব হলে যথা সময়ে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টামেন্ট বরাবর আবেদন করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।

১২। পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন পদ্ধতিঃ
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ছকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে মহাব্যবস্থাপক, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয় বরাবর পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করবে। আবেদনপত্রের সাথে নি¤েœাক্ত তথ্যাদি সংযুক্ত করতে হবে ঃ

 ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সনদপত্র বা মঞ্জুরীপত্র;
 এ খাতে বিতরণের সমন্বিত বিবরণী;
 আবেদনকৃত অর্থ নির্ধারিত সুদসহ পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রæতিপত্র (ডিপি নোট) ও লেটার অব কনটিনিউটি;
 সংশ্লিষ্ট রপ্তানি আদেশ/রপ্তানি ঋণপত্রের কপি;
 সংশ্লিষ্ট Consignment এর Commercial Invoice এর কপি;
 Bill of Lading (B/L)/ Airway Bill/ FCR (Forwarder Cargo Receipt)
 Bill of Export এর কপি;
 রপ্তানি পণ্য প্রস্তুতকরণ সম্পন্নের প্রত্যয়ন;
 বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী ঋণ সংশ্লিষ্ট অনান্য কাগজাদি বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যে কোন তথ্য/প্রামানিক দলিলাদি।

১৩। আদায় ও তদারকীঃ
ক) পুনঃঅর্থায়ন বাবদ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত অংশ্রহণকারী ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রদানের তারিখ হতে ১২০ দিন (চার মাস) পর বা ক্ষেত্র বিশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর সুদসহ এককালীন কর্তন করা হবে;

খ) গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের সকল দায়-দায়িত্ব ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকসমূহের উপর ন্যস্ত থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ আদায়ের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনাকে সম্পর্কিত করা যাবে না;

গ) ঋণ বিষয়ক যাবতীয় ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বহন করবে এবং সরকারের রপ্তানি ও উৎপাদন সংক্রান্ত নীতিমালা পরিপালনের বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃক নিশ্চিত করতে হবে;

ঘ) যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ গ্রাহক ব্যর্থ হলে তা বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করতে হবে এবং প্রভিশন সংরক্ষন করতে হবে;

ঙ) আলোচ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় ব্যাংক কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণের যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে হবে;

চ) পুনঃঅর্থায়নকৃত ঋণের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যে কোন সময় সরেজমিনে যাচাই করা হতে পারে। যাচাইকালে বিতরণকৃত ঋণের সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে উদঘাটিত হলে পুনঃঅর্থায়ন বাবদ প্রদত্ত অর্থ ব্যাংক রেট+৫% হারে সদসহ এককালীন চলতি হিসাব হতে কর্তন করা হবে;

ছ) ঝযবষষ কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ বা ঝযবষষ ব্যাংকের রপ্তানি ঋণপত্রের প্রদত্ত প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট এর বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বিবেচ্য হবে না;

জ) সংশ্লিষ্ট Consignment জাহাজীকরণের পূর্বে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা আবেদন বিবেচ্য হবে না।

১৪। রিপোর্টিং/ প্রতিবেদন দাখিলঃ সংশ্লিষ্ট বিভাগে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিতরণ ও আদায় সংক্রন্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিক আন্তে পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিন যথা মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বর ভিত্তিক প্রতিবেদন যথাক্রমে এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর এবং জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট-এ দাখিল করতে হবে। পুনঃঅর্থায়নকৃত ঋণ সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যাচিত তথ্যাদি/ বিবরণী নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কর্তৃক দাখিল করা না হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৫। অন্যান্য শর্তবলীঃ
ক) একক গ্রহকের বা গেষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা (Single Borrower Exposure Limit) সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।;
খ) ঋণগ্রহিতা নির্বাচন, ঋণ মঞ্জুরী, বিতরণ, দলিল সম্পাদন, ডেট-ইক্যুইটি অনুপাত, ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও তদারকীর বিষয় ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের নিজস্ব বিধি-বিধান ও ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিডিতে নির্ধারিত হবে;
গ) উল্লিখিত খাতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার শর্তাদির বিষয়ে যে কোন সংযোজন, বিয়োজন এবং পরিমার্জনের অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।

 

আপনার বিশ্বস্ত,

(মোঃ মকবুল হোসেন)
মহাব্যবস্থাপক(চলতি দায়িত্বে)
ফোনঃ ৯৫৩০২৬৮

Source: https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/brpd/apr132020brpd09.pdf

Related Circulars :
;
;


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *