Special Working Capital facility for CMSME sector under Financial Incentive package-TK 20,000 Crore. Ref: SMESPD Circular No. 01 dated 13-Apr-2020.

নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে সিএমএসএমই
(CMSME) খাতের জন্য বিশেষ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রসঙ্গে।

নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (ঈগঝগঊ) সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখা এবং শিল্প কারখানায় নিয়োজিত জনবলকে কাজে বহাল রাখার প্রয়োজনে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রবর্তনের জন্য বিগত এপ্রিল ০৫, ২০২০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০(বিশ) হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
এই প্যাকেজের আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই (ঈগঝগঊ) খাতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে চলতি মূলধন (ডড়ৎশরহম ঈধঢ়রঃধষ) বাবদ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দিবে।
চলতি মলূ ধন হিসেবে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধার বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প উদ্যোগের উপর সুদ/মনুাফার বোঝা লাঘবের পাশাপাশি ঋণ/বিনিয়োগের ঝুঁকি বহনকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমহূও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যেই এ বিশেষ প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে সহনীয় সুদ/মুনাফার হার কার্যকর করার লক্ষ্যে বর্তমানে চলমান সুদ/মুনাফার হার ৯.০০ শতাংশ এর বিপরীতে সরকার ৫.০০ শতাংশ সুদ ভর্তুকী হিসেবে প্রদান করবে। এ সুবিধার আওতায় সহজ শর্তে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ/প্রদানের ক্ষেত্রে নি¤œবর্ণিত নির্দেশনাসমহূ অনুসরণীয় হবেঃ
১) ব্যাংক ও খাতওয়ারী ঋণ/বিনিয়োগের আনুপাতিক বণ্টন ও মেয়াদঃ
ক) কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ ভিত্তিক সিএমএসএমই ঋণস্থিতির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এক অর্থ বছরে এই প্যাকেজের আওতায় চলতি মলূ ধন হিসেবে ঋণ/বিনিয়োগসুবিধা প্রদান করতে পারবে। যেহেতু আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় মোট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, সেকারণে প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সীমার বিষয়ে এ সাকুর্ল ার জারির ৩(তিন) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’কে অবহিত করবে। এর আওতায় সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করাসহ এর সুবিধা যাতে অধিক সংখ্যক উদ্যোক্তা পেতে পারেন এর সামঞ্জস্যতা বিধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে উক্ত সীমা বৃদ্ধি/হ্রাস করতে পারবে। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত মোট ঋণ/বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত হলে সীমাতিরিক্ত ঋণ/বিনিয়োগের উপর সরকার হতে ভর্তুকী প্রাপ্য হবে না;
খ) এই ঋণ/ বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সিএমএসএমই খাতের উৎপাদন ও সেবা উপখাতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে, ব্যবসা/ট্রেড ভিত্তিক মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা (ট্রেড) উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বাৎসরিক মোট ঋণ/বিনিয়োগের আনুপাতিক হার হবে যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ২০ শতাংশ;
গ) বাৎসরিক মোট ঋণ/বিনিয়োগের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ গ্রাম অঞ্চলে প্রদান করতে হবে;
ঘ) বাৎসরিক মোট ঋণ/বিনিয়োগের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ মাঝারি শিল্প খাতে প্রদান করা যাবে;
ঙ) বাৎসরিক মোট ঋণ/বিনিয়োগের ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাগনকে প্রদান করতে হবে;
চ) এ ঋণ/বিনিয়োগ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-২ এর ৩ নং ক্রমিকে উল্লিখিত বছর ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত হবে না;
ছ) এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে ৩ (তিন) বছর;
জ) কোনো একক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ এক বছর এ প্যাকেজের আওতায় সরকার হতে ভর্তুকী প্রাপ্য হবেন।
২) ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার যোগ্যতাঃ
শুধুমাত্র করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ (ঈগঝগঊ) এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে নি¤œবর্ণিত বিষয়াবলী যাচাই করে ঋণ/বিনিয়োগ করতে হবে ঃ
ক) খেলাপী ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতাগন এ সুবিধা পাবেন না। কোনো ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কোন ঋণ/বিনিয়োগ মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত হওয়ার পর ইতঃপূর্বে তিনবারের অধিক পুনঃতফসিলকৃত হলে এরূপ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে না;
খ) কুটির ও মাইক্রো শিল্পে নতুনভাবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য আবেদনকারী (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোন ঋণ নেই, তবে যারা এ যাবৎ নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ/বিনিয়োগের সুবিধা নিতে আগ্রহী) এবং বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী (ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের সময় সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত না হলে পূর্ববর্তী হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী) অথবা বিগত বছরের (এক/একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের লিখিত হিসাব থাকা সাপেক্ষে এ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা যাবে;
গ) ক্ষুদ্র শিল্পে নতুনভাবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য আবেদনকারী (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বতর্ম ানে কোন ঋণ নেই, তবে যারা এ যাবৎ নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ/বিনিয়োগের সুবিধা নিতে আগ্রহী) এবং বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের সময় সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত না হলে পূর্ববর্তী হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী) অথবা আস্থায় নেয়া যায় এরূপ আর্থিক বিবরণী থাকা সাপেক্ষে এ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা যাবে;
ঘ) মাঝারি শিল্পে নতুনভাবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের জন্য আবেদনকারী (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বতর্ম ানে কোন ঋণ নেই, তবে যারা এ যাবৎ নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ/বিনিয়োগের সুবিধা নিতে আগ্রহী) এবং বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা-উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের এঁরফবষরহবং ড়হ ওহঃবৎহধষ ঈৎবফরঃ জরংশ জধঃরহম ঝুংঃবস ভড়ৎ ইধহশং (ওঈজজঝ) অনুযায়ী সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর (ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের সময় সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত না হলে পূর্ববর্তী হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী) তথ্যের ভিত্তিতে রেটিং ন্যূনতম গধৎমরহধষ হতে হবে।
৩) চলতি মলূ ধন ঋণ/বিনিয়োগের ব্যবহারঃ
ক) কেবলমাত্র করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভা বে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে চলতি মূলধনের চাহিদার বিপরীতে এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ ব্যবহার করা যাবে;
খ) এ প্যাকেজের আওতায় গৃহীত ঋণ/বিনিয়োগ দিয়ে বিদ্যমান কোন ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব সমন্বয়/পরিশোধ করা যাবে না;
গ) বিএমআরইসহ ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন কোন ব্যবসা চালুর জন্য এ ঋণ/বিনিয়োগ ব্যবহার করা যাবে না।
৪) প্রদেয় ঋণ/বিনিয়োগ সীমা ও মেয়াদঃ
ক) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিগত জানুয়ারী ২০২০ হতে পরবর্তী মাসসমূহের উৎপাদনের/বিক্রয়ের নি¤œমূখিতা যথাযথভাবে নিরূপনকরতঃ বিগত বছরের (এক/একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের ভিত্তিতে
প্রয়োজনীয় চলতি মলূ ধনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে;
খ) উৎপাদন ও সেবা শিল্পের সাথে জড়িত উদ্যোক্তাগণ, যারা ইতঃপূর্বে ব্যাংক হতে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণ করেছেন সে সকল ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতাগণ বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির ৩০% বা সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী গড় পরিচালন ব্যয় (ড়ঢ়বৎধঃরহম বীঢ়বহংবং) এর ৫০%- এ দু’টির মধ্যে যেটি কম সেই পরিমাণ চলতি মূলধন সুবিধা পেতে পারেন;
গ) ট্রেডিং ব্যবসার সাথে জড়িত উদ্যোক্তাগন, যারা ইতঃপূর্বে ব্যাংক হতে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণ করেছেন সে সকল ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতাগণ সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী গড় বার্ষিক টার্নওভার বিবেচনায় নিয়ে ২৫% পর্যন্ত চলতি মলূ ধন সুবিধা পেতে পারেন, তবে তা ১ (এক) কোটি টাকার অধিক হতে পারবে না;
ঘ) নতুন ঋণ/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোন ঋণ নেই, তবে যারা এ যাবৎ নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ/বিনিয়োগের সুবিধা নিতে আগ্রহী) ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগের প্রাপ্যতা সীমা নির্ধারিত হবে। তবে, উক্ত সীমা সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের (যদি থাকে) আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা শিল্পের প্রাপ্যতার সর্বোচ্চ ৩০% অথবা বিগত বছরের (এক/একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের ৫০%- এ দু’টির মধ্যে যেটি কম সেই পরিমাণ। ট্রেডিং ব্যবসার ক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগর পরিমান বার্ষিক টার্নওভারের ২৫% এর মধ্যে, তবে তা ১ (এক) কোটি টাকার অধিক হতে পারবে না;
ঙ) বিনিয়োগকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থায় শিল্প উদ্যোগের উৎপাদন ও টার্নওভার বিষয়ে নিয়মিত সকল দলিলাদি সংরক্ষণ করবে এবং তা পর্যবেক্ষণে রাখবে;
চ) আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় কোন ঋণ/বিনিয়োগ নবায়ন করা যাবে না। তবে, পরবর্তীতে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ঋণ নীতিমালার আওতায় তা নবায়ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে, পরবর্তী সময়ের জন্য সরকারের নিকট হতে সুদ/মুনাফা বাবদ কোন ভর্তুকী প্রদান করা হবে না।
৫) ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মনুাফার হারঃ
ক) এ ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৯ (নয়) শতাংশ। প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার সর্বোচ্চ ৪.০০ (চার) শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন এবং অবশিষ্ট ৫ (পাঁচ) শতাংশ সরকার
ভর্তুকী হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করবে;
খ) ঋণ/বিনিয়োগের উপর সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে সুদ/মুনাফা আরোপিত হলেও সরকার হতে প্রাপ্য ভর্তুকীর সমপরিমাণ অর্থ ঋণগ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে, ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয়
নির্ধারিত সুদ/মুনাফা (৪%) নিয়মানুযায়ী যথাসময়ে পরিশোধিত না হলে সমুদয় আরোপিত সুদ/মনুাফা ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে;
গ) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে বিআরপিডি সাকুর্ল ার নং-০২ তারিখ মার্চ ১৩, ২০১৭ এ উল্লিখিত শিডিউল অব চাজের্স ব্যতীত অন্য কোন চার্জ/ফি আরোপ করা যাবে না। কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কতর্ৃক ঋণ/ বিনিয়োগের উপর অন্য কোন প্রকার অদৃশ্য (যরফফবহ) ফি আরোপ করা হলে সে প্রতিষ্ঠানের বিরূদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারবে;
ঘ) সকলক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে ক্রমহ্রাসমান স্থিতির (ফবপষরহরহম নধষধহপব সবঃযড়ফ) ভিত্তিতে সুদ হিসাবায়ন করতে হবে।
৬) ঋণ/বিনিয়োগ প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যবস্থাপনাঃ
ক) এ প্যাকেজের আওতায় তফসিলিব্যাংকের ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব ‘ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালা’ অনুযায়ী ঋণ/বিনিয়োগ অনুমোদিত হতে হবে।এক্ষেত্রে, ছোট ছোট ঋণ/ বিনিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনে ঋণ/বিনিয়োগে অনুমোদনের ক্ষমতা শাখা পর্যায়ে অর্পণ/পুর্নবন্টন করা যেতে পারে;
খ) প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ বিতরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’-এ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসে অনুমোদিত ও বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগের বিষয়ে সংযোজনী-১ ও ২ (ক ও খ) এ প্রদত্ত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করবে। তথ্য যাচাই এর প্রয়োজনে ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ সংশিষ্টø ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সংক্রান্ত দলিলাদি সরবরাহের অনুরোধ করতে এবং শাখা/মাঠ পর্যায়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রণোদনা আলোচ্য প্যাকেজ হতে বাতিল করা হতে পারে;
গ) ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কত ৃর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কোন ভুল তথ্য সরবরাহ করা হলে উক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই প্যাকেজের আওতায় কোন সুদ ভর্তুকী সুবিধা প্রাপ্য হবে না, উপরন্তু এর জন্য বিতরণকৃত ঋণের উপর ২% হারে জরিমানা আরোপ করা হবে;
ঘ) এই ঋণ/বিনিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধাএসএমই প্যাকেজ’ নামে আলাদাভাবে সংরক্ষিত হবে এবং এ বিষয়ে সিএল-২ বিবরণীতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিপোর্ট করতে হবে;
ঙ) সরকার কর্তৃক ভর্তুকী বাবদ প্রদত্ত সুদ/মনুাফার অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এর ‘একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট’ (এএন্ডবিডি) কর্তৃক প্রদত্ত হবে। সরকার হতে ভর্তুকী বাবদ সুদ/মুনাফার পুনর্ভরণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়/প্রিন্সিপাল অফিস কর্তৃক সম্পাদিত হতে হবে।
৭) ঋণ/বিনিয়োগের আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন, বিতরণ, তদারকি প্রক্রিয়া, ইত্যাদিঃ
এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ প্রাপ্তির জন্য আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন, বিতরণ ও তদারকি কার্যক্রম নি¤œবর্ণিত উপায়ে সম্পাদিত হবেঃ
ক) করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাগণযে কোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ/বিনিয়োগের আবেদন করতে পারবেন;
খ) আবেদনকারী উদ্যোক্তা করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব ‘ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালা’র আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ ঝুঁকি বিশ্লেষণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ/বিনিয়োগের মঞ্জুরী/অনুমোদন প্রদান করবে। এক্ষেত্রে, অপেক্ষাকৃত বেশী ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে;
গ) যথাযথভাবে প্রক্রিয়া অবলম্বন করতঃ ঋণ/বিনিয়োগের মঞ্জুরী/অনুমোদন হওয়ার পর ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণকারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিজস্ব ‘ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালা’র আওতায় নিজস্ব তহবিল হতে দ্রæততার সাথে ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণ করবে;
ঘ) উল্লিখিত ৬(খ) এর নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ কে তথ্য সরবরাহ করতে হবে;
ঙ) আলোচ্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-২ এর অন্যান্য নীতিমালা/ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে;
চ) আলোচ্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ‘একক গ্রাহক ঋণসীমা’ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে;
ছ) এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের ব্যবহার যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা, তা তদারক করার জন্য প্রতিটি ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয়ের আওতায় একটি ‘বিশেষ মনিটরিং সেল’ গঠন করে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করবে;
জ) এ উদ্দেশ্যে গঠিত ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ এর বিশেষ মনিটরিং সেল যেকোন সময় এ তহবিলের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারবে।
৮) ঋণ/বিনিয়োগ আদায় প্রক্রিয়াঃ
ক) যেহেতুচলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ একটি চলমান (ঈড়হঃরহঁড়ঁং) প্রকৃতির ঋণ/বিনিয়োগ সেহেতু এটি মেয়াদপুর্তিতেই পরিশোধযোগ্য। ঋণ/বিনিয়োগ মেয়াদের মধ্যে (এক বছর) মঞ্জুরীকৃত ঋণ/বিনিয়োগসীমার আওতায় টাকা জমা ও উত্তোলন করা যাবে;
খ) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে আরোপিত সুদ/মুনাফাসহ ঋণ/বিনিয়োগের স্থিতি (খড়ধহ ঙঁঃংঃধহফরহম) কোনভাবেই মঞ্জুরীকৃত ঋণসীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তবে কোনো কারণে সুদ/মুনাফা আরোপের ফলে ঋণসীমা অতিক্রম করলে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে পরবর্তী ০৫(পাঁচ) কমর্ িদবসের মধ্যে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক তা পরিশোধিত/সমন্বিত হতে হবে;
গ) বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের সকল দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তাবে;
ঘ) ঋণ/বিনিয়োগ অনাদায়ে এরূপ ঋণ/বিনিয়োগ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণীকরণপূর্বক যথাযথভাবে প্রভিশন সংরক্ষন করতে হবে।
৯) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ/মুনাফার অর্থ পুনর্ভরণ প্রক্রিয়াঃ
ক) এ প্যাকেজের আওতায় গৃহীত ঋণ/বিনিয়োগের উপর আরোপিত সুদ/মুনাফার ৫ (পাঁচ) শতাংশ অর্থ ত্রৈমাসিকভিত্তিতে (মার্চ, জনু, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) সরকারের নিকট হতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভর্তুকী হিসেবে প্রাপ্য হবে। উল্লেখ্য, ভর্তুকী বাবদ প্রাপ্য অর্থ বাদে কোনো ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতি সীমার মধ্যে থাকলে সুদ/মনুাফার অর্থ আদায় হিসেবে বিবেচিত হবে;
খ) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ত্রৈমাসিক পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট’ এ বিগত তিন মাসে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের বিষয়ে সংযোজনী-৩ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতঃ উক্ত বিভাগের অনাপত্তি পত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট’ বরাবরে সুদ/মুনাফা বাবদ ভর্তুকীর জন্য আবেদন করবে;
গ) একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট এরূপ আবেদন যাচাইপূর্বক ভর্তুকী বাবদ প্রাপ্য সুদ/মুনাফার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাবে জমা করবে;
ঘ) ঋণ/বিনিয়োগের উপর আরোপিত সুদ/মুনাফার মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক প্রদেয় অংশ আলোচ্য নীতিমালা অনুযায়ী যথাসময়ে আদায়/পরিশোধিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারের নিকট হতে সুদ/মুনাফা বাবদ ভর্তুকীর অর্থ প্রাপ্য হবে না। এক্ষেত্রে, এর সমুদয় দায় গ্রাহকের উপর বর্তাবে এবং এধরনের ঋণ/বিনিয়োগ বিষয়ে ব্যাংক নিজস্ব নীতিমালায় ব্যব¯া’ গ্রহণ করবে।
ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংযোজনীঃ বর্ণনা মোতাবেক।

Source: https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/smespd/apr132020smespd01.pdf

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *