Financial stimulus package to mitigate probable economic impact due to breakout of Novel Corona Virus (COVID-19). Ref: BRPD Circular No. 08 dated 12-Apr-2020.

Website: www.bb.org.bd

  ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ
বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধান কার্যালয়
ঢাকা।
 
বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৮ ১২ এপ্রিল ২০২০
 তারিখঃ———————
২৯ চৈত্র ১৪২৬

ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী
বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

প্রিয় মহোদয়,

নভেল করোনা ভাইরাস COVID-19)-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে
সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় আর্থিক প্রণোদনা প্রসঙ্গে।

নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় দেশে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রবর্তনের লক্ষ্যে বিগত ০৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেন।
উক্ত প্যাকেজের আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দিবে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধার বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর সুদ/মুনাফার বোঝা সহনীয় করা/লাঘবের লক্ষ্যে এ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে সহনীয় সুদ/মুনাফার হার কার্যকর করার লক্ষ্যে বর্তমানে চলমান সুদ/মুনাফার হার ৯.০০% এর বিপরীতে সরকার ৪.৫০% সুদ ভর্তুকী হিসেবে প্রদান করবে। এ সুবিধার আওতায় সহজ শর্তে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ/প্রদানের ক্ষেত্রে নি¤œবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ অনুসরণীয় হবেঃ
১) ঋণ/বিনিয়োগ প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যবস্থাপনাঃ
এ প্যাকেজের আওতায় তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ/বিনিয়োগ মঞ্জুরী/অনুমোদিত হতে হবে। তবে প্রতিটি ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ হতে সম্মতিপত্র গ্রহণ করতে হবে। সরকার কর্তৃক ভর্তুকী বাবদ প্রদত্ত সুদ/মুনাফার অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রধান কার্যালয় এর একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত হবে। সরকার হতে ভর্তুকী বাবদ সুদ/মুনাফার পুনর্ভরণ গ্রহণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়/প্রিন্সিপাল অফিস কর্তৃক সম্পাদিত হতে হবে।
২) ব্যাংকওয়ারী ঋণ/বিনিয়োগের সীমা এবং মেয়াদঃ
ক) ব্যাংকিং সেক্টর কর্তৃক শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ স্থিতির মধ্যে স্ব স্ব ব্যাংকের অবদান এবং সম্ভাব্য ঋণ/বিনিয়োগ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ব্যাংক এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগের নিজস্ব চাহিদা নির্ধারণ করবে যা এ প্যাকেজের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ/বিনিয়োগের প্রাথমিক সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে। উক্ত সীমার উপর ভিত্তি করে ব্যাংক তাদের ঋণ/বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যেহেতু আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় মোট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, সেহেতু ব্যাংক কর্তৃক উক্ত সীমা নির্ধারণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে অবহিত করতে হবে। এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাসহ সার্বিক কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্যকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে উক্ত সীমা বৃদ্ধি/হ্রাস করতে পারবে;
খ) এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের স্থিতিভিত্তিক শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের বিভিন্ন সাব-সেক্টরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির আনুপাতিক হারের সাথে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করতে হবে;
গ) এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে ৩(তিন) বছর। তবে, কোনো একক গ্রাহকের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদের জন্য এ প্যাকেজের আওতায় সরকার হতে ভর্তুকী পাওয়া যাবে।
৩) ঋণ/বিনিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতাঃ
যে সকল শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠান (CMSME ব্যতীত) করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধুমাত্র সে সকল প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রযোজ্য হবেঃ
ক) খেলাপী ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতাগণ এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে না। এতদ্ব্যতীত কোনো ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কোন ঋণ/বিনিয়োগ মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত হওয়ার পর ইতোপূর্বে তিনবারের অধিক পুনঃতফসিলকৃত হলে এরূপ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে না;
খ) নতুনভাবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণে ইচ্ছুক আবেদনকারী (যারা এ যাবত নিজস্ব পুঁজির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাংক ঋণ/বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে) এবং বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা-উভয়ের ক্ষেত্রেই Guidelines on Internal Credit Risk Rating System for Banks (ICRRS) অনুযায়ী সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর (ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণের আবেদনের সময় সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত না হলে পূর্ববর্তী হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী) তথ্যের ভিত্তিতে রেটিং ন্যূনতম Marginal হতে হবে।
৪) ঋণ/বিনিয়োগের ব্যবহারঃ
ক) করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ/বিনিয়োগের চাহিদার বিপরীতে এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ ব্যবহার করা যাবে;
খ) এ প্যাকেজের আওতায় গৃহীত ঋণ/বিনিয়োগ দিয়ে বিদ্যমান কোন ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব সমন্বয়/পরিশোধ করা যাবে না;
গ) বিএমআরই-সহ ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন কোন ব্যবসা চালুর জন্য এ ঋণ/বিনিয়োগ ব্যবহার করা যাবে না।
৫) শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের অনুকূলে প্রদেয় ঋণ/বিনিয়োগ সীমা ও মেয়াদঃ
ক) শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের ক্ষতিগ্রস্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা ভোগ করছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগের সীমা হবে বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ মঞ্জুরীকৃত/প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০%;
খ) শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের ক্ষতিগ্রস্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা ভোগ করছে না সে সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানকারী ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ/বিনিয়োগের প্রাপ্যতা সীমা নির্ধারিত হবে। এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগের সীমা হবে উল্লিখিত প্রাপ্যতা সীমার সর্বোচ্চ ৩০%;
গ) এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ একটি চলমান ঋণ/বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে। চলমান ঋণ/বিনিয়োগটি Working Capital under Stimulus Package নামে অভিহিত হবে এবং সিএল-২ বিবরণীতে রিপোর্ট করতে হবে। প্রতিটি ঋণ/বিনিয়োগের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১(এক) বছর। আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় এ ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা নবায়ন করা যাবে না। তবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধাটি নবায়ন করা যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের জন্য সরকারের নিকট হতে সুদ/মুনাফা বাবদ কোন ভর্তুকী প্রাপ্য হবে না।
৬) ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার হারঃ
ক) এ ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৯.০০ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের উপর আরোপিত সুদ/মুনাফার অর্ধেক অর্থাৎ ৪.৫০ শতাংশ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪.৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকী হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রদান করবে। এক্ষেত্রে অত্র সার্কুলারের ২(গ)নং ক্রমিকে বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো একক ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য সরকার হতে ভর্তুকী প্রাপ্য হবে;
খ) ঋণ/বিনিয়োগের উপর ৯ শতাংশ হারে সুদ/মুনাফা আরোপিত হলেও সরকার হতে প্রাপ্য ভর্তুকীর সমপরিমাণ অর্থ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় নির্ধারিত সুদ/মুনাফা (৪.৫%) অত্র নীতিমালার ৮(ক), ৯(ক) ও ৯(খ)-এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসময়ে পরিশোধিত না হলে সমুদয় আরোপিত সুদ/মুনাফা ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
৭) ঋণ/বিনিয়োগের আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন, বিতরণ ও তদারকি প্রক্রিয়াঃ
এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ প্রাপ্তির জন্য আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন, বিতরণ ও তদারকি কার্যক্রম নি¤œবর্ণিত উপায়ে সম্পাদিত হবেঃ
ক) করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠান যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে ঋণ/বিনিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবে;
খ) অত্র সার্কুলারের ২নং ক্রমিকে বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী এ প্যাকেজের আওতায় প্রতিটি ব্যাংকের ঋণ/বিনিয়োগের মোট সীমা (খাত-ভিত্তিকসহ) নির্ধারিত হবে। ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত মোট ঋণ/বিনিয়োগের পরিমাণ উক্ত নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত হলে সীমাতিরিক্ত ঋণ/বিনিয়োগের উপর সরকার হতে ভর্তুকী প্রাপ্য হবে না;
গ) ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণে ইচ্ছুক আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানটি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তফসিলি ব্যাংক স্ব-স্ব সীমার মধ্যে নিজস্ব ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালার আওতায় ঋণ/ব বিশ্লেষণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ/বিনিয়োগের মঞ্জুরী/অনুমোদন প্রদান করবে;
ঘ) এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহণে ইচ্ছুক যোগ্য আবেদনকারীদের ঋণ/বিনিয়োগ চাহিদা স্ব-স্ব ব্যাংকের ঋণ/বিনিয়োগ সীমার অধিক হলে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার (Priority) দিতে হবে। প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ সমন্বয়/পরিশোধিত হলে অথবা নির্ধারিত মেয়াদ এক বছর অতিবাহিত হলে (যেটি আগে ঘটে) পরবর্তীতে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে একইভাবে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো ব্যাংক এভাবে মোট তিন বছর পর্যন্ত এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করতে পারবে। তবে একটি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র এক বছরের জন্য আলোচ্য ভর্তুকী সুবিধা প্রাপ্য হবে;
ঙ) প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা স্বল্প সংখ্যক গ্রাহকদের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না করে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান যাতে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা ভোগ করতে পারে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানকারী ব্যাংক সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিবে;
চ) আলোচ্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত একক গ্রাহক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure Limit) সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে;
ছ) বাংলাদেশ ব্যাংক এর ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের আওতায় ‘বিশেষ মনিটরিং ইউনিট’ নামে একটি ইউনিট থাকবে। এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে তফসিলি ব্যাংকসমূহ উক্ত ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করবে। এতদ্ব্যতীত উক্ত ইউনিট এর তত্ত¡বধানে যে কোন সময় এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হবে;
জ) ব্যাংকের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঋণ/বিনিয়োগের মঞ্জুরী/অনুমোদন হওয়ার পর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কপি, ঋণ গ্রহণে ইচ্ছুক আবেদনকারীর অনুকূলে ঋণ/বিনিয়োগ মঞ্জুরীর স্বপক্ষে ব্যাংকের মতামতসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী (বিদেশী ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অপারেশনের প্রধান) এর স্বাক্ষরে ‘সংযোজনী ক-১’এ বর্ণিত ফরমেট মোতাবেক এবং ‘সংযোজনী ক-২’-এ বর্ণিত তথ্যাদিসহ ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিপত্র প্রাপ্তির জন্য ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ বরাবরে আবেদন করতে হবে। এতদ্সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর সরাসরি তত্ত¡াবধানে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করতে হবে এবং উক্ত সেল এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ কার্যক্রমের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ মনিটরিং ইউনিটের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করবে;
ঝ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি পত্র প্রাপ্তির পর ব্যাংক নিজস্ব ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিজস্ব তহবিল হতে ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণ করবে;
ঞ) অত্র সার্কুলারের আওতায় ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগ এর তথ্য ‘সংযোজনী গ’ অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে মাস শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-এ প্রেরণ করতে হবে।
৮) ঋণ/বিনিয়োগ আদায় প্রক্রিয়াঃ
ক) এ সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে আরোপিত সুদ/মুনাফাসহ ঋণ/বিনিয়োগের স্থিতি (Loan Outstanding মঞ্জুরীকৃত ঋণ/বিনিয়োগ সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তবে কোনো কারণে সুদ/মুনাফা আরোপের ফলে ঋণ/বিনিয়োগের স্থিতি ঋণ/বিনিয়োগ সীমা অতিক্রম করলে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে পরবর্তী ০৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা কর্তৃক তা পরিশোধিত/সমন্বিত হতে হবে;
খ) বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের সকল দায়-দায়িত্ব ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানকারী ব্যাংকের উপর বর্তাবে;
গ) ঋণ/বিনিয়োগ অনাদায়ে এরূপ হিসাব শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণীকরণপূর্বক যথাযথ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
৯) ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ/মুনাফার অর্থ পুনর্ভরণ প্রক্রিয়াঃ
ক) এ প্যাকেজের আওতায় বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগের উপর আরোপিত সুদ/মুনাফা সার্কুলারে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী আদায় হলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) এ সার্কুলার মোতাবেক মোট নির্ধারিত সুদ/মুনাফার অর্ধেক সরকারের নিকট হতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ভর্তুকী হিসেবে প্রাপ্য হবে। উল্লেখ্য, ভর্তুকী বাবদ প্রাপ্য অর্থ বাদে কোনো ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতি সীমার মধ্যে থাকলে সুদ/মুনাফার অর্থ আদায় হিসেবে বিবেচিত হবে;
খ) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ/বিনিয়োগের উপর নির্ধারিত সুদ/মুনাফা আরোপ করে ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার অংশ আদায়পূর্বক ত্রৈমাসিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের সম্মতিপত্রসহ ‘সংযোজনী-খ-১’ ও ‘সংযোজনী-খ-২’ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপাটমেন্ট বরাবরে সুদ/মুনার্ ফা বাবদ ভর্তুকীর জন্য আবেদন করবে;
গ) একাউন্টস এন্ড বাজেটিং ডিপাটমেন্ট এরূপ আবেদনর্ যাচাইপূর্বক ভর্তুকী বাবদ প্রাপ্য সুদ/মুনাফার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাবে জমা করবে;
ঘ) ঋণ/বিনিয়োগের উপর আরোপিত সুদ/মুনাফার মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক প্রদেয় অংশ অত্র নীতিমালা অনুযায়ী যথাসময়ে আদায়/পরিশোধিত না হলে সরকারের নিকট হতে সুদ/মুনাফা বাবদ ভর্তুকীর অর্থ প্রাপ্য হবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এরূপ অর্থ গ্রাহকের ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবের বিপরীতে আরোপ করতে পারবে এবং তা গ্রাহকের দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
১০)আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতাঃ
ক) উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর আওতায় কার্যরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এ প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং প্রদত্ত ঋণ/বিনিয়োগের সুদ/মুনাফার অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতা পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকী হিসেবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করবে।
খ) প্রতিটি ঋণ/বিনিয়োগ বিতরণের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ হতে সম্মতিপত্র গ্রহণ করতে হবে।
গ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে ICRRSপ্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নীতিমালা (যদি থাকে) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ঋণ/বিনিয়োগ নীতিমালা ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে।
ঘ) অত্র সার্কুলারের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায়োগিক সুবিধার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অধিকতর নির্দেশনা জারি করবে।
ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংযোজনীঃ বর্ণনা মোতাবেক। আপনাদের বিশ্বস্ত,

(মোঃ মকবুল হোসেন)
মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্বে)
ফোনঃ ৯৫৩০২৬৮

Source: https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/brpd/apr122020brpd8.pdf

Related Circulars :
;
;
;
;


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *