Circular for Providing agricultural loan at 4% concessional interest rate in the crop sector to mitigate the crisis due to novel corona virus. Ref: ACD Circular No. 02 dated 27-Apr-2020.

নভেল করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় কৃষকের অনূকুলে প্রণোদনা
সুবিধার আওতায় শস্য ও ফসল খাতে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ প্রদান প্রসঙ্গে।

নভেল করোনা ভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কৃষি খাতে শস্য ও ফসল চাষের জন্য কৃষক পর্যায়ে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক। উল্লেখ্য, আমদানী বিকল্প ফসলসমূহ (ডাল, ‣তলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষ করার জন্য কৃষক পর্যায়ে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য তফসিলি ব্যাংকসমূহের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে।
এক্ষনে, আমদানী বিকল্প ফসলসমূহের পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান, গমসহ সকল দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাক-সবজি ও কন্দাল ফসল চাষের জন্যও সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনা হিসেবে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ বিতরণ করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। বিতরণকৃত ঋণসমূহের বিপরীতে ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রকৃত সুদ-ক্ষতি বাবদ ৫% হারে সুদ- ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধা প্রাপ্য হবে।
সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধার আওতায় শস্য ও ফসল চাষের জন্য ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুবিধার্থে অনুসরণীয় বিষয়গুলি নি¤েœ উল্লেখ করা হলোঃ
ক) সূচনা ঃ এ স্কীমের নাম হবে ”নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় শস্য ও ফসল খাতে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ প্রদান”
খ) স্কীমের মেয়াদ ঃ এ স্কীমের মেয়াদ হবে ১ এপ্রিল ২০২০ হতে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত ।
গ) ঋণের সুদের হারঃ এ স্কীমের আওতায় কৃষক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪%। উক্ত সুদ হার চলমান এবং নতুন ঋণগ্রহিতা উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে, ৩০ জুন, ২০২১ এর পর চলমান ঋণসমূহের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বাভাবিক সুদ হার প্রযোজ্য হবে।
ঘ) ঋণ বিতরণ ও আদায়ঃ
১) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান গমসহ সকল দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাক-সবজি ও কন্দাল ফসল চাষের ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ পুর্ববর্তী বছরসমূহের ন্যয় নিজস্ব উৎস হতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত তাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষক পর্যায়ে ৪% হার সুদে ঋণ বিতরণ করবে। এক্ষেত্রে, ব্যাংকসমূহ তাদের প্রকৃত সুদ-ক্ষতি অনুযায়ী ৫% হারে সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধা প্রাপ্য হবে।
২) শস্য ও ফসল চাষের জন্য রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচীতে উল্লিখিত ঋণ নিয়মাচার এবং অন্যান্য নীতিমালা যেমন কৃষক প্রতি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, জামানত, আবেদনপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সময়কাল, ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা নিরূপণ, পাস বইয়ের ব্যবহার, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকী ও আদায় ইত্যাদি যথারীতি প্রযোজ্য হবে। এ স্কীমের আওতায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ৪% সুদ হার নিশ্চিত করতে হবে।
ঙ) রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকসমূহকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানঃ
১) চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের অতিক্রান্ত সময়ের মধ্যে যে সকল ঋণ ইতোমধ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাক-সবজি ও কন্দাল ফসল চাষে বিতরণ করা হয়েছে তন্মধ্যে, শুধুমাত্র এপ্রিল-জুন, ২০২০ ক্সত্রমাসিকে আদায়কৃত/সমন্বয়কৃত ঋণসমূহের বিপরীতে এপ্রিল-জুন মাসের বকেয়া ঋণ স্থিতির উপর ব্যাংকসমূহ চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহকে সংশ্লিষ্ট ঋণগুলোর বিদ্যমান সুদ হার ১এপ্রিল, ২০২০ হতে ৪% এ পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া, ২০২০-২১ অর্থবছরে আদায়কৃত/সমন্বয়কৃত ঋণসমূহের বিপরীতে ব্যাংকসমূহ উক্ত অর্থবছর শেষে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবী করবে।
২) ব্যাংকসমূহ রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণের আদায়কৃত/সমন্বয়কৃত ঋণ হিসাবসমূহের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট অর্থবছর সমাপ্তির ০১ (এক) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রকৃত সুদ-ক্ষতি বাবদ ৫% হারে আর্থিক ক্ষতিপূরণের আবেদন পেশ করবে। উক্ত আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকসমূহ সংযুক্ত ছক মোতাবেক সুদ ক্ষতিপূরণের হিসাবায়নসহ একটি বিবরণী এবং সরাসরি কৃষকের অনুকূলে ৪% হারে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট সকল শাখা হতে প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহপূর্বক অত্র বিভাগে দাখিল করবে।
৩) এ সার্কুলারের আওতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবী হিসাবায়নের ক্ষেত্রে আমদানী বিকল্প ফসলসমূহ (ডাল, ‣তলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষের জন্য বিতরণকৃত ঋণের আদায়কৃত/সমন্বয়কৃত ঋণ হিসাব সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আমদানী বিকল্প ফসলসমূহ চাষের জন্য বিতরণকৃত ঋণসমূহের বিপরীতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবী প্রচলিত নিয়মে পৃথকভাবে করতে হবে।
৪) বাংলাদেশ ব্যাংক ‣দবচয়ন (ৎধহফড়স ংধসঢ়ষরহম) ভিত্তিতে রেয়াতি হারে যোগ্য বলে দাবীকৃত ঋণের ন্যূনপক্ষে ১০% ঋণ নথি সরেজমিনে যাচাই করবে এবং যাচাইকৃত ঋণের মধ্যে যে পরিমাণ ঋণ নিয়মানুযায়ী প্রদেয় হয়নি মর্মে প্রমাণিত হবে তার শতকরা হার নির্ণয় করত তা পুরো দাবীকৃত ঋণের উপর কার্যকরপূর্বক প্রকৃত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব উৎস হতে ব্যাংকসমূহের সুদ
ক্ষতির অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।
৫) ঋণ বিতরণকারী শাখাসমূহ রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণ গ্রহীতাদের তালিকাসহ এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি যেমন- মোট ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা, শস্য/ফসলের নাম, ঋণ গ্রহীতার ঠিকানা, জমির পরিমাণ, ঋণ মঞ্জুরী ও বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ, ঋণ বিতরণ ও সমন্বয়ের তারিখ ইত্যাদি সংরক্ষণ করবে যাতে প্রয়োজনবোধে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তার যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হয়। এছাড়া, ঋণ বিতরণকারী শাখাসমূহ এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি বিবরণী আকারে স্ব-স্ব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত বিশেষ ঋণ মনিটরিং সেল-এর নিকটও প্রেরণ করবে।
৬) এ স্কীমের আওতায় উল্লিখিত শস্য ও ফসলসমূহে প্রকৃত চাষীদের অনুকূলে রেয়াতি সুদে প্রদত্ত ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণার্থে ঋণ বিতরণে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ ফলপ্রসূ তদারকীর যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৭) ঋণ মঞ্জুরী পত্র অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কোন ঋণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনাদায়ী থাকলে তার উপর রেয়াতি সুদ হার প্রযোজ্য হবে না।
মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়ার উপর ব্যাংকের নির্ধারিত স্বাভাবিক সুদের হারই ঋণ বিতরণের তারিখ হতে প্রযোজ্য হবে।
৮) উপরোক্ত স্কীমের অধীনে বিতরণকৃত ঋণের অর্থ সুদসহ যথানিয়মে আদায় করার জন্য তদারকী জোরদার করতে হবে।
উপরোক্ত নির্দেশনা ১ এপ্রিল, ২০২০ হতে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

Source: https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/acd/apr272020acd02.pdf

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *