TRANSACTIONS WITH BANK-RELATED PERSONS. REF: BRPD CIRCULAR NO. 04 DATED 23.02.2014.

ব্যাংক-কোম্পানীর তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থা অর্জন ও বজায় রাখার ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত লেনদেন সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১৭, ১৮, ২৬গ, ২৭ ও ২৮ ধারাসমূহে এ জাতীয় লেনদেন সম্পর্কিত কতিপয় বিধান সন্নিবেশিত আছে। উক্ত বিধানাবলীর সুষ্ঠু পরিপালনসহ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হলোঃ
১। সংজ্ঞাঃ
(১) ‘ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি’ বলতে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৬গ ধারার ব্যাখ্যাংশে বর্ণিত ‘ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি’কে বুঝাবে।
(২) ‘আর্থিক লেনদেন’ বলতে ঋণ ও অগ্রিম প্রদান, ঋণপত্র ইস্যু, গ্যারান্টি এবং অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা ও অঙ্গীকার প্রদান; দ্রব্য, সেবা ও স্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়; স্থাবর সম্পত্তি লীজ/ভাড়া প্রদান ও গ্রহণ করাকে বুঝাবে।
(৩) ‘উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক’ বলতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সাথে যৌথভাবে, কোনো কোম্পানীর মালিকানা স্বত্বের শতকরা পাঁচ ভাগের অধিক শেয়ার ধারণকে বুঝাবে।
২। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে লেনদেনের সাধারণ বিধানাবলীঃ
(১) কোনো ব্যাংক-কোম্পানী নিজ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে বা তাঁর স্বার্থের অনুক‚লে এমন কোনো আর্থিক লেনদেন করবে না যার শর্তাবলী ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত লেনদেনের শর্তাবলী অপেক্ষা সহজতর।
(২) ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তাঁর স্বার্থের অনুকুলে সম্পাদিত সকল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
(৩) কোনো ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক নিজ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা তাঁদের স্বার্থের অনুকুলে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ (Funded) ঋণ-সুবিধার মোট পরিমাণ উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর টিয়ার-১ মূলধনের শতকরা ১০ ভাগ এর বেশী হবে না। যে সব প্রত্যক্ষ ঋণসুবিধার বিপরীতে নগদ অর্থ ও নগদায়নযোগ্য জামানত (Encashable Securities) রয়েছে সে সব ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে উক্তরূপ জামানত বাদ দিয়ে নিরূপিত অর্থই প্রকৃত ঋণসুবিধা হিসেবে গণ্য হবে।
৩। ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালকদের ক্ষেত্রে পরিপালনীয় অধিকতর বিধানাবলীঃ
৩.১। পরিচালকের ঋণ সম্পর্কিত সাধারণ বিধানঃ ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালক, তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ ও অগ্রীম, এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী পরিপালনের পাশাপাশি নিম্নোক্ত নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করতে হবেঃ
ক) ঋণ প্রাপ্যতার সীমাঃ
(১) পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, এবং তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী-এর অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য ঋণসুবিধার মোট পরিমাণ ঐ পরিচালকের নিজ নামে ধারণকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারের পরিশোধিত মূল্যের ৫০% এর অধিক হবে না। এক্ষেত্রে, কোনো পাবলিক কোম্পানীতে ব্যাংকের পরিচালক যে পরিমাণ (শতাংশ) শেয়ার ধারণ করেন সেই অনুপাতে ব্যাংক ঋণ পরিচালকের ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।
(২) পরিচালক ও তাঁর উক্তরূপ স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য ঋণসুবিধার মোট পরিমাণ এই সার্কুলার কার্যকর হওয়ার তারিখে উক্ত পরিচালকের ধারণকৃত ব্যাংকের শেয়ারের পরিশোধিত মূল্যের ৫০% এর অধিক হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে পরিচালকের প্রাপ্যতার অতিরিক্ত সুবিধা পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উক্ত ৫০% সীমার অধিক ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নবায়ন বা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না।
খ) ঋণ অনুমোদনঃ
(১) পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, জামিনদাতা হিসেবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি-র অনুক‚লে সকল প্রকার ঋণসুবিধা, গ্যারান্টি এবং অন্য কোন আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
(২) ব্যাংক পরিচালক, তাঁদের উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এর অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন বার্ষিক সাধারণ সভা কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
গ) ঋণের শর্তাবলীঃ
(১) পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে ঋণ ও অগ্রিম প্রদানের ক্ষেত্রে পরিচালকের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণ করতে হবে। এরূপ ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকীকৃত হতে হবে।
(২) মুদারাবা বা মুশারাকাসহ অন্য যে কোন ঋণ/বিনিয়োগ পদ্ধতি, যাতে ঋণ গ্রহীতাকে লোকসান বহন থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি প্রদান করা হয়, এমন ঋণ/বিনিয়োগ পরিচালক বা পরিচালকের উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা যাবে না।
ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনঃ
(১) পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুক‚লে প্রত্যক্ষ ঋণ ৫০ লক্ষ টাকা বা ততোধিক এবং প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার সমন্বয়ে মোট ১০০ লক্ষ টাকা বা ততোধিক প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। পূর্বানুমোদনের জন্য এতদসংগে সংযোজিত ছক অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং ঋণের প্রস্তাবনার সত্যায়িত অনুলিপি প্রেরণ করতে হবে।
(২) ব্যাংকের কোনো পরিচালক/প্রাক্তন পরিচালক, তাঁর উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিম এবং গ্যারান্টির বিপরীতে প্রদত্ত জামানত, সহ-জামানত, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, ইত্যাদি পরিবর্তন/রহিতকরণ/প্রত্যর্পণ করতে হলে বা ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি প্রদান এবং অন্য কোনো আর্থিক সুবিধার কোনো শর্ত পরিবর্তন করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এ ধরণের ক্ষেত্রে মূল মঞ্জুরীপত্রের (ঋণের শর্ত সম্বলিত) অনুলিপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
ঙ) ঋণ/সুদ মওকুফঃ
(১) ব্যাংক-কোম্পানীর পরিচালক/প্রাক্তন পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, জামিনদাতা হিসেবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, এবং তাঁর স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ বা ঋণের অংশ এবং আয়খাতে নীত সুদ মওকুফ করা যাবে না।
(২) ব্যাংকের পরিচালক/প্রাক্তন পরিচালক, তাঁর উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণের উপর অর্জিত সুদ বা সুদের অংশ মওকুফ করার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে, বর্তমানে ব্যাংকের কোনো শেয়ার ধারণ করছেন না এমন প্রাক্তন পরিচালকদের ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচালক পদে থাকার পূর্বে বা পরবর্তীতে গৃহীত ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকেই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে সুদ মওকুফ করা যাবে।
৩.২। স্বতন্ত্র পরিচালককে ঋণদান সংক্রান্ত বিধানঃ ব্যাংক-কোম্পানীতে নিয়োজিত স্বতন্ত্র পরিচালকের নিজের নামে, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, মালিকানা স্বত্বের শতকরা পাঁচ ভাগের অধিক শেয়ার রয়েছে এরূপ প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানী, জামিনদাতা হিসেবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, এবং স্বতন্ত্র পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং তাঁর উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে কোনোরূপ ঋণসুবিধা প্রদান করা যাবে না এবং অন্য কোনো আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
৩.৩। প্রতিনিধিত্বকারী পরিচালকের ঋণ সংক্রান্ত বিধানঃ শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংক পরিচালকের ক্ষেত্রে ৩.১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিচালকের ঋণ সম্পর্কিত সাধারণ বিধানের অতিরিক্ত নিম্নোক্ত বিধানাবলী প্রযোজ্য হবেঃ
(১) প্রতিনিধিত্বকারী পরিচালক, তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ ও অগ্রিম বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ও গ্যারান্টি গ্রহণ করতে হবে।
(২) প্রতিনিধিত্বকারী পরিচালকের ঋণ প্রাপ্যতার পরিমাণ নিরূপনে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/ট্রাস্টের ধারণকৃত ব্যাংকের শেয়ারের পরিশোধিত মূল্য বিবেচনায় নেয়া হবে। শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠান, উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী পরিচালক বা পরিচালকগণ, তাঁদের আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/ট্রাস্ট এর ধারণকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারের পরিশোধিত মূল্যের ৫০% এর অধিক ঋণ ও অগ্রিম এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেয়া যাবে না।
(৩) প্রতিনিধিত্বকারী পরিচালকের অনুকূলে ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণের আবেদনের সাথে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/ট্রাস্টি বোর্ড এর অনুমোদনের কপি প্রেরণ করতে হবে।
৩.৪। বিকল্প পরিচালকের ঋণ সংক্রান্ত বিধানঃ বিকল্প পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে বিকল্প পরিচালকের নিজের নামে, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, জামিনদাতা হিসেবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, এবং বিকল্প পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি-র অনুক‚লে কোনোরূপ ঋণসুবিধা প্রদান করা যাবে না, পূর্বে প্রদত্ত ঋণসুবিধার মেয়াদ বা সীমা বৃদ্ধি করা যাবে না কিংবা কোনো মওকুফ বা সুদারোপ রহিতকরণ সুবিধা দেয়া যাবে না।
৩.৫। সরকার মনোনীত ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ সম্পর্কিত বিশেষ বিধানঃ
(১) সরকার মনোনীত পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা, গ্যারান্টি, জামানত অথবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যাবে না এবং ইতোপূর্বে প্রদত্ত সুবিধা বৃদ্ধি করা যাবে না।
(২) পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে উক্ত পরিচালক, তাঁর উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণের উপর অর্জিত সুদ মওকুফ বা পুনঃতফসিলীকরণ অথবা প্রদত্ত সুবিধার কোনো শর্তের পরিবর্তন করা যাবে না। ইতোপূর্বে প্রদত্ত ঋণ ও অন্যান্য সুবিধাদি নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
(৩) পরিচালক, তাঁর উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইতোপূর্বে প্রদত্ত ঋণ খেলাপী ঋণে পরিণত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে তা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে (অর্থ মন্ত্রণালয়) অবহিত করতে হবে।
৪। ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীর ঋণ সম্পর্কিত অধিকতর বিধানাবলীঃ
(১) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নিজের নামে, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, মালিকানা স্বত্বের শতকরা পাঁচ ভাগের অধিক শেয়ার রয়েছে এরূপ প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানীর অনুক‚লে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা, গ্যারান্টি, জামানত অথবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যাবে না এবং ইতোপূর্বে প্রদত্ত সুবিধা বৃদ্ধি করা যাবে না। পূর্বে প্রদত্ত ঋণ ও অন্যান্য সুবিধাদির নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীর স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং তাঁর উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে বিনা জামানতে কোনো ঋণ ও অগ্রিম বা গ্যারান্টি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যাবে না। এরূপ ঋণসুবিধা পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদানযোগ্য হবে এবং ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত ব্যাংকের অনুকূলে অবশ্যই বন্ধকীকৃত হতে হবে। প্রদেয় ঋণসুবিধার পরিমাণ ১০০ লক্ষ টাকার অধিক হলে তা পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
(৩) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী, তাঁর উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ বা ঋণের অংশ এবং আয়খাতে নীত সুদ মওকুফ করা যাবে না। প্রদত্ত ঋণের উপর অর্জিত সুদ বা সুদের অংশ মওকুফ করার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
(৪) ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত কর্মচারী/কর্মকর্তা ঋণ ও অগ্রীম এর ক্ষেত্রে এই সার্কুলারের বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে না।
৫। উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারকের ঋণ সংক্রান্ত অধিকতর বিধানাবলীঃ
(১) ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক, উক্ত শেয়ারধারকের স্বামী বা স্ত্রী, উক্ত শেয়ারধারক পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানী, এবং মালিকানা স্বত্বের শতকরা পাঁচ ভাগের বেশী শেয়ার তাঁর অধিকারে রয়েছে এরূপ প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানীর অনুকূলে প্রদেয় ঋণ ও অগ্রিম, গ্যারান্টি এবং আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ১০০ লক্ষ টাকার অধিক হলে তা পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
(২) উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁর উক্তরূপ স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ বা ঋণের অংশ এবং আয়খাতে নীত সুদ মওকুফ করা যাবে না। প্রদত্ত ঋণের উপর অর্জিত সুদ বা সুদের অংশ মওকুফ করার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
৬। ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৬গ, ২৭ এবং ২৮ ধারার পরিপালনকল্পে এই সার্কুলার জারি করা হলো। পরিচালকগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সাকুর্লারে উল্লিখিত বিধানাবলী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী অবহিত করাবেন।
৭। এই সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এই সার্কুলার কার্যকর হওয়ার পর থেকে BRPD CIRCULAR NO. 07 DATED 12.08.1996, BRPD CIRCULAR LETTER NO. 08 DATED 23.03.1999, BRPD CIRCULAR NO. 07 DATED 05.08.1999, BRPD CIRCULAR NO. 11 DATED 20.09.1999, BRPD CIRCULAR LETTER NO. 20 DATED 25.10.1999, BRPD CIRCULAR NO. 01 DATED 30.01.2000, BRPD CIRCULAR NO. 03 DATED 06.02.2001, BRPD CIRCULAR NO. 19 DATED 24.10.2001 এবং BRPD CIRCULAR NO. 02 DATED 21.01.2002 বাতিল বলে গণ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *