MASTER CIRCULAR REGARDING INSTRUCTIONS TO BE FOLLOWED BY THE SCHEDULED BANKS FOR THE PREVENTION OF MONEY LAUNDERING & TERRORIST FINANCING. REF: BFIU CIRCULAR NO. 10 DATED 28.12.2014.

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০১২ ও ২০১৩ সালের সংশোধনীসহ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উক্ত আইন ও উক্ত আইনের আওতায় জারীকৃত বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী পরিপালনে বাংলাদেশের সকল তফসিলী ব্যাংকের জন্য অনুসরণীয় নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(১)(ঘ) এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৫(১)(জ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারী করা হলোঃ

১। পরিপালন কাঠামোঃ

১.১ মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ নীতিমালাঃ

মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদন্ড, দেশে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর নির্দেশনাবলীর সমন্বয়ে প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা থাকবে যা তাদের পরিচালনা পর্ষদ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংকের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হবে। উক্ত নীতিমালা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতিতে আনতে হবে। ব্যাংক সময় সময় নীতিমালাটি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন/পরিমার্জন করবে।

১.২ মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে অঙ্গীকার ঘোষণাঃ

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বাৎসরিক ভিত্তিতে ব্যাংকের সকল বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে সুস্পষ্ট ও কার্যকর অঙ্গীকার ঘোষণা করবেন এবং অঙ্গীকার বাস্তবায়নে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করবেন।

১.৩ কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট (Central Compliance Unit)ঃ

(১) ব্যাংকিং খাতকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক ঝুঁকি হতে মুক্ত রাখার জন্য এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং বিএফআইইউ কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে পরিপালনার্থে-

(ক) প্রতিটি ব্যাংক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (Central Compliance Unit) প্রতিষ্ঠা করবে যা সরাসরি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক তত্ত্বাবধান করতে হবে। উল্লিখিত ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা’ প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (Chief Anti Money Laundering Compliance Officer-CAMLCO) নামে অভিহিত হবেন। এক্ষেত্রে ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা’ বলতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নীচের ২(দুই) ধাপ পর্যন্ত পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ বিবেচিত হবেন। তবে বিদেশী ব্যাংকের ক্ষেত্রে উক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির (Management Committee) সদস্য হতে হবে। প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা পরিবর্তিত হলে অবিলম্বে লিখিতভাবে বিএফআইইউ-কে অবহিত করতে হবে। প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাকে ব্যাংকের অন্য কোন দায়িত্ব অর্পনের পূর্বে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত হতে হবে যে এর ফলে ব্যাংকটির মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রম বিঘিড়বত হবে না।

(খ) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এ উপ-প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে ন্যূনতম ‘সহকারী মহাব্যবস্থাপক’ অথবা ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ অথবা সমপদমর্যাদার এক বা একাধিক কর্মকর্তাকে মনোনয়ন প্রদান করা যাবে।

(গ) প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা ও উপ-প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তার মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, বিএফআইইউ কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশনাবলী ও এতদ্বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদন্ডসমূহের উপর সম্যক ধারণা থাকতে হবে।

(২) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট ন্যূনতম ৫(পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট হতে হবে যা প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা ও উপ-প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত হবে। তন্মধ্যে, ২(দুই) জন সদস্য ব্যাংকের জেনারেল ব্যাংকিং ও ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগ হতে মনোনীত করতে হবে। তবে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে কর্মরত কোন কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এর সদস্য হবেন না। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ সম্পূর্ণ পৃ ক দুইটি ইউনিট বা বিভাগ হিসেবে মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রম সম্পাদন করবে।

(৩) মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল ও কর্মসূচী নির্ধারণ করবে এবং সময় সময় তা পর্যালোচনা করবে। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

(৪) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপ, এবিষয়ে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন ষান্মাসিক ভিত্তিতে (জানুয়ারি-জুন, জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর অবগতি ও নির্দেশনার জন্য দাখিল করবে। উক্ত প্রতিবেদনে এ সার্কুলারের ৮.৩(১) এ বর্ণিত বিষয়সমূহসহ মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিএফআইইউ কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয়ে থাকলে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রধান নির্বাহীর নির্দেশনা ও মতামতসহ প্রতিবেদনটি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতিবেদনটির একটি কপি সংশ্লিষ্ট ষান্মাসিক শেষ হওয়ার ২(দুই) মাসের মধ্যে বিএফআইইউ বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

(৫) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট নি¤েড়ব উল্লিখিত ১.৪ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা মোতাবেক শাখা পর্যায়ে পরিপালন কর্মকর্তা মনোনয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পরিবীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে মনোনয়নপূর্বক মনোনীত কর্মকর্তাকে তাঁর দায়িত্বসমূহ লিখিতভাবে অবহিত করবে।

(৬) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট শাখাসমূহের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী জারী করবে যেখানে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে লেনদেন পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নীতি ও পদ্ধতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১.৪ শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাঃ

(১) মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, বিএফআইইউ এর নির্দেশনাবলী এবং ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক প্রতিটি শাখায় একজন অভিজ্ঞ শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (Branch Anti Money Laundering Compliance Officer-BAMLCO) মনোনীত করবে।

(২) শাখা ব্যবস্থাপক, শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা অথবা জেনারেল ব্যাংকিং এ অভিজ্ঞ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তার মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, বিএফআইইউ এর সকল নির্দেশনা এবং ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালার বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তার মনোনয়নপত্রে তার কর্মপরিধি এবং দায় দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

(৩) শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা শাখার অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক সভা করবেন এবং উক্ত সভায় নিম্নোক্ত বিষয়সমূহসহ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং বিএফআইইউ এর অন্যান্য নির্দেশনার পরিপালন পর্যালোচনাপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ঃ

􀂃 গ্রাহক পরিচিতি (KYC)

􀂃 লেনদেন মনিটরিং

􀂃 সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ ও রিপোর্টিং

􀂃 রেকর্ড সংরক্ষণ

􀂃 প্রশিক্ষণ

১.৫ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহের জন্য করণীয়ঃ

যে সকল ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত সে সকল ব্যাংক উক্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরসনকল্পে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। তবে, ব্যাংকের কোন সাবসিডিয়ারীর মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলে এবং উক্ত সাবসিডিয়ারী মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ বা সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর আওতায় রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারী মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরসনকল্পে স্বতন্ত্র পরিপালন কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক সাবসিডিয়ারীর পরিপালন কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহ কর্তৃক এজেন্ট বা ক্যাশ পয়েন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই/বাছাই প্রক্রিয়া (Screening Mechanism) অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যাশ পয়েন্ট/এজেন্ট কর্তৃক মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন বিষয়ক কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী ব্যাংকসমূহের উপর সমভাবে দায়ভার বর্তাবে।

২। গ্রাহক নির্বাচন নীতিমালাঃ

গ্রাহক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। উক্ত নীতিমালায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে আবশ্যিকভাবে নিমেড়বাক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবেঃ

(১) বেনামে বা ছদ্মনামে বা শুধুমাত্র নম্বরযুক্ত কোন গ্রাহকের হিসাব খোলা যাবে না ।

(২) Shell Bank এর সাথে কোন ধরণের ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এক্ষেত্রে Shell Bank বলতে ঐসব ব্যাংককে বুঝাবে যারা যেদেশে নিবন্ধিত সেদেশে তাদের কোন শাখা বা কার্যক্রম নেই এবং কোন নিয়ন্ত্রিত আর্থিক গ্রুপ (Regulated Financial Group) এর অধিভুক্ত নয় ।

(৩) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলুশনের আওতায় সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীকার্যে অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার কোন হিসাব খোলা যাবে না বা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলুশনের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা বলতে সন্ত্রাস বিরোধী বিধিমালা, ২০১৩ এর ২ (ছ) নং বিধিতে সংজ্ঞায়িত রেজুলুশনের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তাকে বুঝাবে। এই তালিকাসমূহ http:/ww/w.un.org/sc/committees/index.shtml ev http:/ww/w.bb.org.bd/aboutus/dept /bfiu/sanction_list.php ওয়েবলিংক হতে সংগ্রহ করা যাবে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তা বলতে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৮ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা তফসিলভুক্ত কোন ব্যক্তি বা সত্তাকে বুঝাবে।

(৪) অনিবাসী বাংলাদেশীদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে Foreign Exchange Regulation Act, 1947 এর বিধানাবলী ও এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনাসমূহ অনুসরণীয় হবে।

৩। গ্রাহক পরিচিতিঃ

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে এবং ব্যাংকিং খাতকে এ বিষয়ক ঝুঁকি হতে মুক্ত রাখার জন্য গ্রাহক পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে মানিলন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের ঝুঁকির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ব্যাংককে গ্রাহকের যথাযথ পরিচিতি গ্রহণ এবং যাচাই প্রক্রিয়া(Know Your Customer-KYC) সম্পাদন করতে হবে।

৩.১ গ্রাহকের সংজ্ঞাঃ

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গ্রাহক পরিচিতি ও যাচাই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক বলতে নিমেড়বাক্ত ব্যক্তি বা সত্তাকে বুঝাবেঃ

(১) ব্যাংকের সাথে কোনরূপ হিসাব সংরক্ষণ করে বা ব্যাংক এর সাথে কোনরূপ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন যে কোন ব্যক্তি বা সত্তা;

(২) হিসাব বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রকৃত সুবিধাভোগী (Beneficial Owner) তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা সত্তা যার পক্ষে হিসাব পরিচালিত হয়;

(৩) বিদ্যমান আইনী কাঠামোর আওতায় হিসাব পরিচালনাকারী কোন পেশাদার মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক পরিচালিত হিসাব বা লেনদেনের প্রকৃত সুবিধাভোগী; এবং

(৪) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একক লেনদেনে সংঘটিত অধিক মূল্যের ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডার, টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং অন্য কোন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সত্তা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক লেনদেন এর তুলনায় কোন লেনদেন অস্বাভাবিক প্রতীয়মান হলে তা ‘অধিক মূল্যের’ বলে বিবেচিত হবে।

৩.২ Customer Due Diligenceঃ

(১) Customer Due Diligence (CDD) বলতে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদির ভিত্তিতে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাইকরণ ও সনাক্তকরণসহ হিসাবের লেনদেন মনিটরিং করাকে বুঝাবে।

উল্লেখ্য যে, গ্রাহকের যথাযথ পরিচিতি গ্রহণ এবং যাচাইকরণ (KYC), CDD প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

(২) গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন পর্যায়ে CDD সম্পাদন করতে হবে-

(ক) গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সময়;

(খ) বিদ্যমান গ্রাহকের সাথে আর্থিক লেনদেন সংঘটনের সময় ;

(গ) যখন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকবে যে ইতোপূর্বে গ্রাহকের পরিচিতির সপক্ষে যে তথ্য বা দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বা সঠিক নয়; এবং

(ঘ) কোন লেনদেন মানিলন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের সাথে জড়িত এরূপ সন্দেহ হলে।

(৩) গ্রাহকের পরিচিতি এবং ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যাংক তাদের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করবে। “ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে” বলতে বিদ্যমান নির্দেশনার আলোকে গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সংগ্রহপূর্বক CDD সম্পনড়ব করা হয়েছে মর্মে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করাকে বুঝাবে।

(৪) যদি গ্রাহকের পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি হিসাব পরিচালনা করে সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কিনা তা নিশ্চিত হয়ে তার পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ।

(৫) ট্রাস্টি ও পেশাদার মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক গ্রাহকের পক্ষে পরিচালিত হিসাবের ক্ষেত্রে তাদের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা ও তার যথার্থতা নিরূপণপূর্বক সংশ্লিষ্ট সকলের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ।

(৬) যেসব দেশ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেনি বা তাৎপর্যপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে (যেমন ঃ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের পাবলিক ডকুমেন্টে High Risk and Non-Cooperative Jurisdictions হিসেবে তালিকাভুক্ত দেশ) সেসব দেশের কোন ব্যক্তি বা সত্তার (আইনগত প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ যে কোন প্রতিষ্ঠান) সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখা এবং লেনদেন সম্পাদনের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতামূলক Enhanced Due Diligence সম্পনড়ব করতে হবে।

(৭) হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী (Beneficial Owner) সনাক্তকরণপূর্বক ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে পরিচিতি নিশ্চিত করতে হবে ঃ

(ক) যদি কোন গ্রাহক অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষে হিসাব পরিচালনা করে, সে ক্ষেত্রে গ্রাহক ছাড়াও উক্ত ব্যক্তির পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে;

(খ) যদি কোন ব্যক্তি কোন গ্রাহককে নিয়ন্ত্রণ করে সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে; এবং

(গ) কোম্পানীর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ার হোল্ডার অথবা ২০% বা তদূর্ধ্ব একক শেয়ার হোল্ডারকে হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী বিবেচনায় তার/তাদের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে

হবে।

৩.৩ Customer Due Diligence সম্পাদন করা সম্ভব না হলে ব্যাংকের করণীয়ঃ

গ্রাহকের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণে অথবা গ্রাহকের বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য/উপাত্ত নির্ভরযোগ্য না হলে অর্থাৎ গ্রাহক পরিচিতির সন্তোষজনক তথ্য প্রাপ্তি এবং তা যাচাই সাপেক্ষে CDD সম্পাদন করা সম্ভব না হলে ব্যাংক নি¤ড়বরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেঃ

(১) ব্যাংক উক্তরূপ গ্রাহকের হিসাব খুলবে না অথবা প্রয়োজনে বিদ্যমান হিসাব বন্ধ করে দিবে।

(২) বিদ্যমান এরূপ হিসাব বন্ধ করার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কতৃর্প ক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে এবং হিসাব বন্ধ করার পূর্বে হিসাব বন্ধকরণের কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক গ্রাহককে নোটিশ প্রদান করতে হবে ।

(৩) ক্ষেত্রমত এরূপ গ্রাহকের বিষয়ে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

৩.৪ গ্রাহকের হিসাব পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়মাবলীঃ

(১) প্রতিটি ব্যাংক গ্রাহকের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে পরিশিষ্ট ‘ক’ এ সংযুক্ত হিসাব খোলার ফরমের আলোকে প্রণীত নিজস্ব ফরম ব্যবহার করবে। গ্রাহক পরিচিতি এবং Customer Due diligence (CDD) যথাযথভাবে সম্পাদন করার জন্য উক্ত হিসাব খোলার ফরম ব্যবহারপূর্বক প্রত্যেক ব্যাংক তার গ্রাহকের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করবে এবং গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় ৩.২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত CDD সম্পনড়ব করার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগৃহীত তথ্যের সঠিকতা যাচাইসহ CDD সম্পাদনপূর্বক তথ্য ও দলিলাদি সংরক্ষণ করবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক কোনক্রমেই পরিশিষ্ট ‘ক’ এ সংযুক্ত হিসাব খোলার ফরমে উল্লিখিত তথ্যের কম তথ্য সংগ্রহ করবে না। তবে প্রত্যেক ব্যাংক যথাযথভাবে গ্রাহকের পরিচিতি ও CDD সম্পাদন করার উদ্দেশ্যে ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে উক্ত ফরমে বর্ণিত তথ্যের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। ‘ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে’ এর ব্যাখ্যা ৩.২ (৩) অনুচ্ছেদে প্রদান করা হয়েছে।

(২) একই ব্যাংকে একই গ্রাহকের একাধিক হিসাব পরিচালিত হলে গ্রাহক পরিচিতির পুনরাবৃত্তি পরিহার ও লেনদেন মনিটরিং এর সুবিধার্থে ব্যাংক উক্ত গ্রাহকের জন্য একটি Unique Customer Identification Code (UCIC) বরাদ্দ করবে। উক্ত UCIC গ্রাহককে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে, নির্দিষ্ট গ্রাহককে ব্যাংক কর্তৃক কী কী সেবা প্রদান করা হচ্ছে তা চিহ্নিত (track) করতে সাহায্য করবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে আর্থিক লেনদেন মনিটরিং-এর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

(৩) Walk-in Customer অর্থাৎ হিসাবধারী গ্রাহক ব্যতীত অন্য কারো অনুরোধে টিটি, এমটির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে অর্থ প্রেরণকারী এবং প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য, অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। Walk-in Customer এর অনুরোধে ডিডি বা পে-অর্ডার ইস্যুর ক্ষেত্রেও আবেদনকারী ও বেনিফিসিয়ারীর পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য, অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

“পূর্ণাঙ্গ (complete)” বলতে প্রেরণকারী/আবেদনকারী এবং প্রাপক/বেনিফিসিয়ারীর পরিচিতি যাচাইকল্পে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সন্নিবেশকে বুঝাবে। উদাহরণস্বরূপঃ প্রেরণকারী/আবেদনকারী এবং প্রাপক/বেনিফিসিয়ারীর নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা, ব্যাংক হিসাব নম্বর (যদি থাকে), পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ/গ্রহণযোগ্য পরিচিতিমূলক ছবিযুক্ত আইডি কার্ড, ফোন/মোবাইল নম্বর ইত্যাদি।

“সঠিক (complete)” বলতে পূর্ণাঙ্গ এরূপ তথ্যকে বুঝাবে যার সঠিকতা যাচাই করা হয়েছে।

Walk-in Customer এর ক্ষেত্রে $ ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার) বা এর নীচের অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রেরণকারী/আবেদনকারী ও প্রাপক/বেনিফিসিয়ারীর নাম ও ঠিকানা এবং প্রেরণকারী/আবেদনকারীর টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।

(৪) হিসাবধারী গ্রাহকের অনুরোধে ড্রাফট/পে অর্ডার ইস্যুর ক্ষেত্রেও প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য (৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সংজ্ঞা অনুযায়ী), অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(৫) অনলাইন জমা বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে গ্রাহক ব্যতীত অন্য জমাকারী বা উত্তোলনকারীর সঠিক ও পূর্ণাংগ তথ্য (৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সংজ্ঞা অনুযায়ী) সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া অনলাইন জমার ক্ষেত্রে অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(৬) সকল কর্পোরেট/ প্রোপ্রাইটরশীপ প্রতিষ্ঠানের এক লক্ষ ও তদূর্ধ্ব মূল্যমানের এবং ব্যক্তি হিসাবের পাঁচ লক্ষ ও তদূর্ধ্ব মূল্যমানের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী “গ্রাহক সম্মতিপত্র” (Positive Pay Instruction) আবশ্যিকভাবে গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।

(৭) ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবের লেনদেনের অনুমিত মাত্রা (Transaction Profile) সম্পর্কে গ্রাহকের ঘোষণা নির্ধারিত ফরমে সংগ্রহ করবে। গ্রাহকের প্রকৃতি, হিসাবের অর্থের উৎস ও লেনদেনের ধরণ পর্যালোচনাপূর্বক ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের ৬(ছয়) মাসের মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক সম্পাদিত লেনদেন পর্যালোচনাপূর্বক যৌক্তিক বিবেচনায় তার যথার্থতা নিরূপণকরতঃ প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে লেনদেনের অনুমিত মাত্রা গ্রাহকের নিকট হতে পুনরায় গ্রহণপূর্বক সংরক্ষণ করবে।

(৮) প্রতিটি ব্যাংক নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর গ্রাহকের পরিচিতিমূলক তথ্য (KYC) হালনাগাদকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিম্ন ঝুঁকি সম্পন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে এরূপ প্রক্রিয়া প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া, উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে এরূপ প্রক্রিয়া এক বছর পর পর সম্পনড়ব করতে হবে। তবে গ্রাহকের পরিচিতিমূলক তথ্যের যে কোন পরিবর্তন অবগত হওয়ার সাথে সাথেই তা হালনাগাদ করতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট কোন প্রয়োজন অনুভূত হলে যে কোন সময়েই গ্রাহকের পরিচিতিমূলক তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে পুনরায় অবিলম্বে এসব হিসাবের ঝুঁকি নির্ণয় করতে হবে।

(৯) এপ্রিল ৩০, ২০০২ তারিখের পূর্বে খোলা যে সকল হিসাবের KYC প্রক্রিয়া সম্পনড়ব করা সম্ভব হয়নি সে সকল হিসাব ‘সুপ্ত’ (Dormant) হিসেবে চিহ্নিত হবে। সুপ্ত হিসেবে চিহ্নিত এ সকল হিসাবে শুধুমাত্র অর্থ জমা করা যাবে কিন্তু উত্তোলন করা যাবে না। তবে গ্রাহক কর্তৃক শাখা ব্যবস্থাপকের নিকট লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক উক্ত গ্রাহকের KYC প্রক্রিয়া সম্পনড়ব করলে গ্রাহক হিসাবটিতে স্বাভাবিক লেনদেন সম্পাদন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এরূপ সুপ্ত হিসাবের তথ্য সংরক্ষণ করবে।

৩.৫ সশরীরে অনুপস্থিত বা দূরবর্তী গ্রাহকের (Non face to face customer) ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

ব্যাংক তাদের সশরীরে অনুপস্থিত বা দূরবর্তী গ্রাহককে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের ঝুঁকি নিরূপণ এবং ঝুঁকি নিরসনের নীতি ও পদ্ধতি প্রণয়ন করবে এবং সময় সময় তা পর্যালোচনা করবে।

সশরীরে অনুপস্থিত বা দূরবর্তী গ্রাহক বলতে ঐ সকল গ্রাহককে বুঝাবে যারা ব্যাংক শাখায় সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ব্যাংকের এজেন্টের মাধ্যমে বা নিজের পেশাদার প্রতিনিধির (আইনজীবী, একাউন্ট্যান্ট ইত্যাদি) মাধ্যমে হিসাব খুলে থাকে এবং পরিচালনা করে থাকে।

৩.৬ নতুন সেবা বা প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

ব্যাংক কর্তৃক প্রযুক্তি নির্ভর নতুন কোন সেবা বা পদ্ধতি (যেমন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইলেকট্রনিক কার্ড ইত্যাদি) প্রচলন বা প্রচলিত সেবা বা পদ্ধতির উনড়বয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত সেবা বা পদ্ধতির মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি চিহ্নিত করবে, তার মাত্রা নিরূপণ করবে এবং এরূপ সেবা বা পদ্ধতি হতে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৩.৭ Politically Exposed Persons (PEPs) এর ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

Politically Exposed Persons (PEPs) এর হিসাব খোলা ও হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে এ সার্কুলারের ৩.২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণের পাশাপাশি নিমেড়বর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করতে হবেঃ

ক) ব্যাংককে তাদের গ্রাহক বা হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী PEPs কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে;

খ) ব্যাংকের উপযুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে;

গ) কোন PEP এর হিসাবের অর্থ বা সম্পদের উৎস জানার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

ঘ) তাদের হিসাবের লেনদেন নিয়মিতভাবে মনিটর করতে হবে; এবং

ঙ) Foreign Exchange Regulation Act, 1947 ও এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত অনিবাসীদের হিসাব খোলা সংক্রান্ত যাবতীয় বিধিবিধান যথারীতি পরিপালন করতে হবে।

Politically Exposed Persons (PEPs) বলতে “individuals who are or have been entrusted with prominent public functions by a foreign country, for example Heads of State or of government, senior politicians, senior government, judicial or military officials, senior executives of state owned corporations, important political party officials” কে বুঝাবে।

PEPs এর পরিবারের সদস্য ও তাদের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তির (close associates) ক্ষেত্রেও উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ প্রযোজ্য হবে।

এ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘PEPs’ হিসেবে কোন মধ্যম বা অধস্তন (Middle ranking or more junior individuals) পর্যায়ের ব্যক্তি বিবেচিত হবেন না।

৩.৮ প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

ব্যাংককে তাদের গ্রাহক বা হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি কিনা তা নির্ধারণ করতে হবে। এ ধরণের গ্রাহকের সাথে ব্যাংকিং সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ প্রতীয়মান হলে অনুচ্ছেদ ৩.৭ এর খ হতে ঘ ক্রমিকে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।

প্রভাবশালী ব্যক্তি বলতে “Individuals who are or have been entrusted domestically with prominent public functions, for example Head of State or of government, senior politicians, senior government, judicial or military officials, senior executives of state owned corporations, important political party officials” কে বুঝাবে।

প্রভাবশালী কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা তাদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তির (close associates) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’ হিসেবে কোন মধ্যম বা অধস্তন (Middle ranking or more junior individuals) পর্যায়ের ব্যক্তি বিবেচিত হবেন না।

৩.৯ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান বা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

ব্যাংককে তাদের গ্রাহক বা হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান বা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা কিনা তা নির্ধারণ করতে হবে। এধরণের গ্রাহকের সাথে ব্যাংকিং সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ প্রতীয়মান হলে অনুচ্ছেদ ৩.৭ এর খ হতে ঘ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঙ ক্রমিকে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান বা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলতে “Persons who are or have been entrusted with a prominent function by an international organization refers to members of senior management, i.e. directors, deputy directors and members of the board or equivalent functions” কে বুঝাবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান বা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা তাদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তির (close associates) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান’ বা ‘উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা’ হিসেবে কোন মধ্যম বা অধস্তন (Middle ranking or more junior individuals) পর্যায়ের ব্যক্তি বিবেচিত হবেন না।

৩.১০ করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং (Correspondent Banking) এর ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে মানিলন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নে ব্যবহৃত হতে না পারে সেজন্য আন্তঃদেশীয় করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং (Cross Border Correspondent Banking) সম্পর্ক স্থাপন এবং তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নিমেড়বর নির্দেশনাসমূহ আবশ্যিকভাবে পরিপালনীয় হবেঃ

(১) করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানের পূর্বে পরিশিষ্ট ‘খ’ মোতাবেক তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক করেসপন্ডেন্ট বা রেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের ব্যবসায়ের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

(২) করেসপন্ডেন্ট বা রেসপন্ডেন্ট ব্যাংকটি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকরভাবে তদারক করা হয়, এ ব্যাপারে সন্তুষ্টি সাপেক্ষেই কেবলমাত্র কোন বিদেশী ব্যাংকের সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে বা বজায় রাখা যাবে।

(৩) কোন Shell Bank এর সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা বজায় রাখা যাবে না ।

(৪) যে সব করেসপন্ডেন্ট বা রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক Shell Bank এর সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করে বা হিসাব সংরক্ষণ করে বা সেবা প্রদান করে তাদের সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা বজায় রাখা যাবে না। Shell Bank বলতে এ সার্কুলারের ২(২) অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত ব্যাংককে বুঝাবে।

(৫) যেসব দেশ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেনি বা তাৎপর্যপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে (যেমন ঃ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের পাবলিক ডকুমেন্টে High Risk and Non-Cooperative Jurisdictions হিসেবে তালিকাভুক্ত দেশ) সেসব দেশের ব্যাংকের সাথে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন বা বজায় রাখার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা বা Enhanced Due Diligence অবলম্বন করতে হবে। এসব ব্যাংকের Beneficial Ownership এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে তাদের নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ।

(৬) যে সকল রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক তাদের গ্রাহকদেরকে ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন সরাসরি সম্পাদন করার সুযোগ প্রদান করে থাকে (অর্থাৎ Payable through accounts) তাদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবেঃ

(ক) রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক কর্তৃক যথাযথভাবে গ্রাহকের CDD সম্পাদন করতে হবে;

(খ) করেসপন্ডেট ব্যাংকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে রেসপন্ডেন্ট ব্যাংক কতৃর্ক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের CDD বিষয়ক তথ্যাদি সরবরাহ করা সম্ভব হবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

এখানে “Payable through accounts” বলতে “Correspondent accounts that are used directly by third parties to transact business on their own behalf” বুঝাবে।

(৭) এ সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনাবলী বিদ্যমান সকল করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং এই নির্দেশনার আলোকে বিদ্যমান করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কসমূহ পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে।

আন্তঃদেশীয় করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং বলতে যে কোন এক ব্যাংক (করেসপন্ডেন্ট) কর্তৃক অন্য ব্যাংককে (রেসপন্ডেন্ট) ব্যাংকিং সেবা প্রদানকে বুঝাবে। এরূপ ব্যাংকিং সেবা বলতে μেডিট, ডিপোজিট, কালেকশন, ক্লিয়ারিং, পেমেন্ট, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট, আন্তর্জাতিক অয়্যার ট্রান্সফার, ডিমান্ড ড্রাফট্ এর জন্য ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট বা অনুরূপ অন্য কোন সেবা প্রদানকে বুঝাবে।

৪। বিদেশে অবস্থিত ব্যাংক শাখা ও সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান এর ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

(১) প্রতিটি ব্যাংক বিদেশে অবস্থিত তাদের শাখা এবং সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ ও উক্ত আইনের আওতায় জারীকৃত বিধিমালায় বর্ণিত বিধানাবলী এবং বিএফআইইউ কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশনাবলীর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করবে।

(২) বিদেশে অবস্থিত শাখা বা সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান যদি কোন কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ ও উক্ত আইনের আওতায় জারীকৃত বিধিমালায় বর্ণিত বিধানাবলী এবং বিএফআইইউ কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে পরিপালনে অসমর্থ হয় তবে তার কারণ অবিলম্বে বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে।

৫। লেনদেন মনিটরিংঃ

(১) প্রতিটি ব্যাংক গ্রাহকের লেনদেন নিয়মিত মনিটর করবে।

(২) সকল জটিল, স্বাভাবিকের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আপাতদৃষ্টিতে যে সকল লেনদেনের কোন আর্থিক বা দৃষ্টিগ্রাহ্য বৈধ উদ্দেশ্য নেই এরূপ লেনদেন অধিকতর গুরুত্ব সহকারে মনিটর করতে হবে ।

(৩) নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর হিসাবের ঝুঁকি পর্যালোচনা করার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকিসম্পনড়ব হিসেবে শ্রেণীকৃত হিসাবের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা বা Enhanced Due Diligence (EDD) অবলম্বন করতে হবে।

৬। নগদ লেনদেন রিপোর্ট (Cash Transaction Report-CTR)ঃ

(১) প্রতিটি ব্যাংক শাখাসমূহের পূর্ববর্তী মাসের দৈনন্দিন লেনদেন পরীক্ষা করে কোন একটি হিসাবে কোন একটি নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে জমা বা উত্তোলনের (অনলাইন, এটিএমসহ যে কোন ধরণের নগদ জমা বা উত্তোলন) পরিমাণ যদি ১০(দশ) লক্ষ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থের বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রায় হয় তবে তা স্ব স্ব কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এর মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে বিএফআইইউ বরাবরে নগদ লেনদেন রিপোর্ট হিসেবে দাখিল করবে।

(২) ব্যাংকের কোন শাখায় এরূপ কোন লেনদেন সংঘটিত না হলে শাখা হতে “নগদ লেনদেন রিপোর্ট যোগ্য কোন লেনদেন নেই” মর্মে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে অবহিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এসকল শাখার একটি তালিকা বিএফআইইউ এ “নগদ লেনদেন রিপোর্ট” দাখিলের সময় তার সাথে সংযুক্ত করবে।

(৩) শাখা হতে নগদ লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করার পূর্বে লেনদেনসমূহ পর্যালোচনা করে কোন সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করতে হবে ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হলে পৃ কভাবে “সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট” হিসেবে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট এ দাখিল করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত না হলে নগদ লেনদেন রিপোর্টের সাথে “সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া যায়নি” মর্মে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে অবহিত করতে হবে।

(৪) প্রত্যেক ব্যাংক শাখার নগদ লেনদেন রিপোর্ট মাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণ করতে হবে।

(৫) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট ব্যাংকের নগদ লেনদেন রিপোর্টযোগ্য সকল লেনদেন পর্যালোচনা করে কোন সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করবে ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হলে পৃথকভাবে “সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট” হিসেবে বিএফআইইউ বরাবর দাখিল করবে। সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত না হলে “সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া যায়নি” মর্মে প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হতে প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণকরতঃ মাসিক নগদ লেনদেন রিপোর্টের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

(৬) প্রতি মাসের নগদ লেনদেন রিপোর্ট পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে goAML web ব্যবহার করে goAML Manual এর নির্দেশনা মোতাবেক দাখিল করার পাশাপাশি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ তারিখে জারিকৃত এএমএল সার্কুলার নং -১০ এর মাধ্যমে সরবরাহকৃত ফরম মোতাবেক সফট কপি (CD/DVD) বিএফআইইউ বরাবর দাখিল করতে হবে।

(৭) http:/ww/w.bb.org.bd/eservices.php ওয়েবলিংক হতে goAML সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় Document ডাউনলোড করা যাবে ।

(৮) goAML web ব্যবহার করে নগদ লেনদেন রিপোর্ট দাখিলের ক্ষেত্রে শাখাওয়ারী লেনদেন সংখ্যার একটি তালিকা রিপোর্ট এর সাথে সংযুক্তি আকারে দাখিল করতে হবে।

(৯) সরকারী হিসাব (বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ), সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, আধা সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের হিসাবে নগদ জমার ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করার প্রয়োজন হবে না, তবে নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে যথানিয়মে নগদ লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

(১০) আন্তঃব্যাংক এবং আন্তঃশাখা নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘নগদ লেনদেন রিপোর্ট ’ দাখিল করার প্রয়োজন হবে না।

(১১) সংশ্লিষ্ট মাসে রিপোর্টযোগ্য নগদ লেনদেন সংঘটিত না হলে “নগদ লেনদেন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি” মর্মে প্রত্যয়নপত্র goAML Web এর Message Board এর মাধ্যমে বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে।

(১২) ব্যাংকসমূহ নগদ লেনদেন রিপোর্ট এর তথ্যাদি বিএফআইইউ এ দাখিলের মাস হতে কমপক্ষে ৫(পাঁচ) বছর সংরক্ষণ করবে।

৭। সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (Suspicious Transaction Report-STR)ঃ

(১) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৫(১)(ঘ) ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৬(১) ধারায় বর্ণিত নির্দেশ বাস্তবায়নের নিমিত্তে প্রতিটি ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা দৈনন্দিন লেনদেন বা কার্যক্রমে সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে সচেতন ও সতর্ক থাকবেন।

(২) সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরণে ব্যাংক কর্মকর্তাগণ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২(য) ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ২(১৬) ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞা বিবেচনা করবেন।

(৩) ব্যাংক শাখার কোন কর্মকর্তা কর্তৃক সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে তা শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা রিপোর্টকৃত লেনদেন বা কার্যক্রম অবিলম্বে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং পর্যবেক্ষণসমূহ বিশদভাবে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করবেন। বর্ণিত লেনদেন বা কার্যক্রমটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হলে তা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটে প্রেরণ করতে হবে।

(৪) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট শাখা হতে প্রাপ্ত সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমটি যথাযথভাবে ও প্রয়োজনীয় তথ্য- উপাত্ত বা দলিলাদি সন্নিবেশিত করে রিপোর্ট করা হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করে অবিলম্বে goAML web ব্যবহার করে এবং goAML Manual এর নির্দেশনা অনুসারে বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিলের পাশাপাশি পরিশিষ্ট- ‘গ’ তে সংযুক্ত ফরম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদিসহ বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করবে।

(৫) অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট শাখা হতে প্রাপ্ত সন্দেহজনক লেনদেন যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি সন্নিবেশিত করে রিপোর্ট করা হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করে অবিলম্বে goAML web ব্যবহার করে এবং goAML Manual এর নির্দেশনা অনুসারে বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিলের পাশাপাশি পরিশিষ্ট-‘ঘ’ তে সংযুক্ত ফরম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি সন্নিবেশ করে বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করবে।

(৬) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংক তার ক্যাশ পয়েন্ট বা এজেন্টদের মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করবে। ক্যাশ পয়েন্ট বা এজেন্টদের নিকট কোন সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্যাশ পয়েন্ট বা এজেন্ট কর্তৃক এতদ্সংযুক্ত ছকে (পরিশিষ্ট ‘ঘ’) ব্যাংকের কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট বরাবরে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট প্রাপ্ত সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি সন্নিবেশিত করে দাখিল করা হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করে অবিলম্বে goAML web ব্যবহার করে এবং goAML Manual এর নির্দেশনা অনুসারে বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিলের পাশাপাশি পরিশিষ্ট-‘ঘ’ তে সংযুক্ত ফরম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি সন্নিবেশ করে বিএফআইইউ বরাবর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করবে।

ব্যাংকের কোন সাবসিডিয়ারীর মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলে এবং উক্ত সাবসিডিয়ারী মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ বা সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর

আওতায় রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারী কতৃর্ক সরাসরি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বিএফআইইউ বরাবর দাখিল করতে হবে।

(৭) সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম সনাক্তকরণ বা রিপোর্ট করার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বিষয়টির গোপনীয়তা নিশ্চিত করবেন।

(৮) শাখা পর্যায়ে কোন লেনদেন বা কার্যক্রম সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত না হলেও কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট কর্তৃক কোন লেনদেন বা কার্যক্রম সন্দেহজনক প্রতীয়মান হলে অনুচ্ছেদ ৭(৪) মোতাবেক সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বিএফআইইউ বরাবর দাখিল করতে হবে।

(৯) ব্যাংকসমূহ সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট এর তথ্যাদি বিএফআইইউ কর্তৃক পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে।

৮। Self Assessment এবং Independent Testing Proceduresঃ

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে শাখাসমূহ হতে প্রাপ্ত Self Assessment Report পর্যালোচনা এবং Independent Testing Procedures যথাযথভাবে সম্পনড়ব করার জন্য উক্ত বিভাগটিতে পর্যাপ্ত লোকবল নিশ্চিত করতে হবে যাদের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, বিএফআইইউ এর নির্দেশনা এবং এ বিষয়ক ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রয়েছে।

৮.১ শাখাসমূহের করণীয়ঃ

(১) প্রতিটি শাখা কর্তৃক Self Assessment এর জন্য নির্ধারিত চেকলিষ্ট (পরিশিষ্ট ‘ঙ’) এর উপর ভিত্তি করে ষান্মাসিক ভিত্তিতে নিজেদের শাখার মূল্যায়ন করতে হবে;

(২) আলোচ্য মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পূর্বে শাখা ব্যবস্থাপকের সভাপতিত্বে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করতে হবে। উক্ত সভায় খসড়া শাখা মূল্যায়ন প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করতে হবে, চিহ্নিত সমস্যা শাখা পর্যায়ে সমাধান করা সম্ভবপর হলে শাখা কতৃর্ক অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক চূড়ান্ত করতে হবে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ লিপিবদ্ধ করতে হবে। পরবর্তী মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক ত্রৈমাসিক সভাগুলোতে এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে হবে; এবং

(৩) প্রতিটি ষান্মাসিককাল সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শাখা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, এ বিষয়ে শাখা কর্তৃক গৃহীত/গৃহীতব্য কার্যক্রম ও সুপারিশসহ প্রধান কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটে প্রেরণ করতে হবে ।

৮.২ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের করণীয়ঃ

(১) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক শাখাসমূহ হতে প্রাপ্ত শাখা মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করে কোন শাখায় কোন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে শাখাটি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে অবহিত করতে হবে।

(২) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ তাদের নিজস্ব এবং নিয়মিত বার্ষিক পরিদর্শন/নিরীক্ষা কর্মসূচী অনুসারে বিভিন্ন শাখার পরিদর্শন/ নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদনকালে Independent Testing Procedures এর নির্ধারিত চেকলিষ্ট (পরিশিষ্ট “চ”) এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শাখার মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পরীক্ষা করবে ও শাখার রেটিং নির্ণয়করতঃ সংশ্লিষ্ট শাখার প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে। এছাড়া, নিয়মিত বার্ষিক পরিদর্শন/নিরীক্ষা কর্মসূচীর অতিরিক্ত কমপক্ষে ১০% শাখায় পৃ ক পরিদর্শন কর্মসূচীর আওতায় Independent Testing Procedures এর নির্ধারিত চেকলিষ্ট (পরিশিষ্ট “ছ”) এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শাখার মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়াদি পরীক্ষা করবে ও শাখার রেটিং নির্ণয়করতঃ প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে।

(৩) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ পরিদর্শিত/নিরীক্ষিত শাখাসমূহের রেটিং সম্বলিত প্রতিবেদনের কপি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট বরাবরে প্রেরণ করবে।

(৪) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ তাদের ক্যাশ পয়েন্ট/এজেন্টদের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির পরিপালন অবস্থা যাচাইয়ের নিমিত্তে বার্ষিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ১০% ক্যাশ পয়েন্ট/এজেন্টের উপর পরিদর্শন/নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটে প্রেরণ করবে।

৮.৩। কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটের করণীয়ঃ

(১) কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট শাখাসমূহ হতে প্রাপ্ত শাখা মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক দাখিলকৃত পরিদর্শন/নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বিবেচ্য ষান্মাসিকে পরিদর্শিত শাখাসমূহের চেকলিস্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। উক্ত প্রতিবেদনে অন্যান্য বিষয়ের সাথে আবশ্যিকভাবে নিমেড়বর বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবেঃ

(ক) মোট শাখার সংখ্যা এবং শাখা হতে প্রাপ্ত মোট সেলফ অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টের সংখ্যা;

(খ) রিপোর্টকালে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক পরিদর্শিত/নিরীক্ষিত শাখার সংখ্যা এবং শাখাসমূহের অবস্থা (শাখাওয়ারী প্রাপ্ত নম্বর);

(গ) প্রাপ্ত সেলফ অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে অধিক সংখ্যক শাখায় একই ধরণের যে সকল অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে তা উল্লেখপূর্বক ঐ সকল অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা;

(ঘ) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লিখিত সাধারণ ও বিশেষ অনিয়মসমূহ এবং ঐ সকল অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা; এবং

(ঙ) প্রাপ্ত রিপোর্টে “অসন্তোষজনক” ও “প্রান্তিক” হিসেবে মূল্যায়িত শাখাসমূহের পরিপালন নিশ্চিত করতঃ রেটিং উন্নয়নকল্পে গৃহীত ব্যবস্থা।

আলোচ্য প্রতিবেদনটি ১.৩(৪) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হবে।

(২) শাখাসমূহ হতে প্রাপ্ত শাখা মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করে কোন শাখায় কোন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে শাখাটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে।

(৩) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ হতে প্রাপ্ত প্রতিবেদনসমূহ পর্যালোচনাপূর্বক তাদের পর্যবেক্ষণ ও

সুপারিশসহ প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে পূর্ববর্তী বছরের নিরীক্ষায় প্রাপ্ত অনিয়মের বিবরণ সম্বলিত একটি সারসংে ক্ষপ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর দাখিল করবে। প্রধান নির্বাহীর মতামতসহ তা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। প্রধান নির্বাহী ও পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতামত ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বিএফআইইউ বরাবরে দাখিল করতে হবে।

৯। অয়্যার ট্রান্সফার (Wire transfer)ঃ

“অয়্যার ট্রান্সফার (Wire transfer)” বলতে এমন আর্থিক লেনদেনকে বুঝাবে যাতে কোন আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কোন ব্যাংক ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে অপর কোন ব্যাংক শাখার সহায়তায় বেনিফিশিয়ারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করে।

৯.১ অয়্যার ট্রান্সফার সম্পর্কিত অন্যান্য সংজ্ঞা

(১) “আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফার (Cross-border wire transfer)” বলতে এরূপ আর্থিক লেনদেনকে বুঝাবে যে ক্ষেত্রে আবেদনকারী এবং বেনিফিশিয়ারী ভিনড়ব ভিনড়ব দেশে অবস্থান করে। তাছাড়া পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ন্যূনপক্ষে একটি লেনদেন দেশের বাইরে সম্পাদিত হলে তাও আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফার মর্মে গণ্য হবে।

(২) “অভ্যন্তরীণ অয়্যার ট্রান্সফার (Domestic wire transfer)” বলতে এরূপ লেনদেনকে বুঝাবে যেক্ষেত্রে আবেদনকারী ও বেনিফিশিয়ারী একই দেশে অবস্থান করে। এক্ষেত্রে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক ট্রান্সফারে ব্যবহৃত প্রক্রিয়া অন্য কোন দেশে সম্পনড়ব হলেও তা অভ্যন্তরীণ অয়্যার ট্রান্সফার মর্মে গণ্য হবে।

(৩) “আবেদনকারী (Applicant/originator)” বলতে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে (হিসাবধারী কিংবা হিসাবধারী নন) বুঝাবে যার অনুরোধের সূত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বর্ণিত অয়্যার ট্রান্সফার কার্য সম্পাদন করে।

(৪) “বেনিফিশিয়ারী (Beneficiary)” বলতে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে (হিসাবধারী কিংবা হিসাবধারী নন) বুঝাবে যার অনুকূলে অর্থ প্রেরণ করা হয়।

(৫) “পূর্ণাঙ্গ (Complete)” বলতে আবেদনকারী বা বেনিফিশিয়ারীর পরিচিতি যাচাইকল্পে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সন্নিবেশকে বুঝাবে। উদাহরণস্বরূপঃ আবেদনকারী/বেনিফিশিয়ারীর নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা, ব্যাংক হিসাব নম্বর (যদি থাকে) জাতীয় পরিচয়পত্র/নিবন্ধন পত্র/গ্রহণযোগ্য পরিচিতিমূলক ছবিযুক্ত আইডি কার্ড, ফোন/মোবাইল নম্বর ইত্যাদি।

(৬) “সঠিক (Accurate)” বলতে উপরের (৫) দফায় বর্ণিত এরূপ তথ্যকে বুঝাবে যার সঠিকতা যাচাই করা হয়েছে।

(৭) “অর্থবহ (Meaningful)” বলতে উপরের (৫) দফায় বর্ণিত এরূপ তথ্যকে বুঝাবে যা বাহ্যত বা আপাতঃ বিবেচনায় যথাযথ মর্মে প্রতীয়মান হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

৯.২ সকল ধরণের অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত তথ্যাবলী গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ঃ

(১) আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফারঃ

(ক) সাধারণ বা বিশেষ অনুমতির আওতায় অন্যূন ১,০০০(এক হাজার) বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ মার্কিন ডলার বা সমতুল্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ইন্টারমিডিয়ারী/বেনিফিশিয়ারী ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে। এছাড়াও বর্ণিত সীমার নীচের লেনদেনসমূহের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(খ) আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফারের অর্থ বেনিফিশিয়ারীকে প্রদানের ক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারী সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(গ) যে সকল ক্ষেত্রে একক আবেদনকারী কর্তৃক একাধিক আন্তঃদেশীয় অয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে একাধিক বেনিফিসিয়ারীর অনুকূলে ব্যাচ ফাইলে গুচ্ছাকারে (Bundled in a batch file) প্রেরণ করা হয় সে সকল ক্ষেত্রে ব্যাচ ফাইলে আবেদনকারী ও বেনিফিসিয়ারীর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া, আবেদনকারীর হিসাব নম্বরও এক্ষেত্রে ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত করবে।

(২) অভ্যন্তরীণ ওয়্যার ট্রান্সফারঃ

(ক) অন্যূন ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার ) টাকা অভ্যন্তরীণ অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ইন্টারমিডিয়ারী/বেনিফিশিয়ারী ব্যাংক/প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে হবে এবং বর্ণিত সীমার নীচের লেনদেনসমূহের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ অয়্যার ট্রান্সফারের অর্থ বেনিফিশিয়ারীকে প্রদানের ক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারী সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(খ) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী ব্যাংক উপরোক্ত নির্দেশনার অতিরিক্ত পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে সরবরাহকৃত KYC Format ব্যবহার করবে।

(গ) ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে (পণ্য ও সেবা ক্রয় ব্যতীত) পরিশোধ সংক্রান্ত ইন্সট্রাকশন/বার্তায় উপরের ২(ক) এর অনুরূপ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

(ঘ) সরকারী/আধাসরকারী/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত নির্দেশনাসমূহের পরিপালন বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়াও আন্তঃব্যাংক লেনদেন (অর্থাৎ যেখানে আবেদনকারী ও বেনিফিশিয়ারী উভয় পক্ষই কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান) কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উপরের ২(ক) দফায় বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন অব্যাহতিযোগ্য বিবেচিত হবে।

৯.৩ অর্ডারিং, ইন্টারমিডিয়ারী ও বেনিফিশিয়ারী ব্যাংক-এর করণীয়ঃ

(১) অর্ডারিং ব্যাংক ঃ অর্ডারিং ব্যাংককে অয়্যার ট্রান্সফার সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া অর্ডারিং ব্যাংককে বেনিফিশিয়ারীর অর্থবহ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য ন্যূনতম ০৫ (পাঁচ) বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

(২) ইন্টারমিডিয়ারী ব্যাংকঃ

(ক) আন্তঃদেশীয় এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ধরণের অয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অর্ডারিং ব্যাংক ও বেনিফিশিয়ারি ব্যাংকের মাঝে কোন ব্যাংক যে কোন ধরণের ইন্টারমিডিয়ারী হিসেবে কার্য সম্পাদনকালে উক্ত ব্যাংক কর্তৃক আবেদনকারী এবং বেনিফিশিয়ারী সম্পর্কিত তথ্যাদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অর্ডারিং ব্যাংক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্য কোন ইন্টারমিডিয়ারী ব্যাংক) হতে প্রাপ্ত তথ্য ইন্টারমিডিয়ারী ব্যাংক/ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ন্যূনতম ০৫ (পাঁচ) বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

(খ) প্রতিটি ইন্টারমিডিয়ারী ব্যাংক কর্তৃক অয়্যার ট্রান্সফার সম্পাদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা বেনিফিশিয়ারীর তথ্যের অভাবে উক্ত ট্রান্সফার সম্পাদন বা স্থগিতকরণ বা রহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে একটি ঝুঁকিভিত্তিক নীতিমালা ও পদ্ধতি থাকতে হবে।

(৩) বেনিফিশিয়ারী ব্যাংকঃ

(ক) অয়্যার ট্রান্সফার সংক্রান্ত লেনদেন কার্যক্রমে জড়িত বেনিফিশিয়ারী ব্যাংককে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্যের কোন ঘাটতি আছে কি না তা যাচাই করার জন্য একটি ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতির প্রবর্তণ করতে হবে। আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্যের কোন ঘাটতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বা অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবে। প্রাপক/ বেনিফিশিয়ারীকে অর্থ পরিশোধের সময় বেনিফিশিয়ারী ব্যাংককে প্রাপক/ বেনিফিশিয়ারীর পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ন্যূনতম ০৫ (পাঁচ) বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

(খ) প্রতিটি বেনিফিশিয়ারী ব্যাংক অয়্যার ট্রান্সফার সম্পাদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা বেনিফিশিয়ারীর তথ্যের অভাবে উক্ত ট্রান্সফার সম্পাদন বা স্থগিতকরণ বা রহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে একটি ঝুঁকিভিত্তিক নীতিমালা ও পদ্ধতি থাকতে হবে।

৯.৪ অয়্যার ট্রান্সফার সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনাঃ

(১) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহ তাদের এজেন্টদের হালনাগাদ তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।

(২) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণকারীর সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পাদন ও অনুমোদনের পরেই কেবলমাত্র লেনদেন সম্পাদন করতে পারবে। তবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পাদনের পর cash in করা যাবে তবে অনুমোদনের পরেই কেবলমাত্র Cash out করা যাবে ।

(৩) $ ১,০০০/-(এক হাজার) বা এর নীচের অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও বেনিফিশিয়ারীর নাম ও ঠিকানা এবং আবেদনকারীর টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।

(৪) এতদ্সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনাকালে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবশ্যিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত বিধানাবলী, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ইস্যুকৃত নির্দেশনা, এ ইউনিট কতৃর্ক সময়ে সময়ে জারীকৃত

নির্দেশনা এবং এ সম্পর্কিত সব আইন বা বিধিবিধান যথারীতি অনুসরণ করতে হবে।

১০। সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ (Prevention of Financing of Terrorism and Financing of Proliferation of Weapons of Mass Destruction)ঃ

(১) প্রত্যেক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন সংক্রান্ত লেনদেন প্রতিরোধ ও সনাক্ত করার একটি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা জারী করবে, সময় সময় তা পর্যালোচনা করবে এবং বিএফআইইউ কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা যথাযথভাবে প্ররিপালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে।

(২) সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন সম্পর্কিত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হবার সাথে সাথে উক্ত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি বা সত্তার কোন ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক অবিলম্বে বিএফআইইউ বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

(৩) প্রতিটি ব্যাংক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলুশনের আওতায় সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার হালনাগাদ তথ্য ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজুলুশনের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার সংজ্ঞা এ সার্কুলারের ২(৩) অনুচ্ছেদে প্রদান করা হয়েছে।

(৪) প্রতিটি ব্যাংক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন রেজুলুশনের আওতায় বা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার নামে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের

নিয়ন্ত্রণাধীন/স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি বা সত্তার নামে ব্যাংক হিসাব রয়েছে কিনা বা কোন লেনদেন সংঘটিত হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করার জন্য নিয়মিত লেনদেন মনিটর করবে এবং প্রয়োজনে লেনদেন পর্যালোচনা করবে। তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তা অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন/স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি বা সত্তার কোন ব্যাংক হিসাব বা লেনদেন চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত হিসাবের লেনদেন বা লেনদেনটি স্থগিত করে পরবর্তী কর্ম দিবসের মধ্যে এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য বিএফআইইউকে অবহিত করবে।

(৫) যদি অয়্যার ট্রান্সফার সংক্রান্ত লেনদেনের আবেদনকারী কিংবা বেনিফিশিয়ারী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন রেজুলুশনের আওতায় বা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তা হয় তবে তা চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত লেনদেনটি স্থগিত করে পরবর্তী কর্ম দিবসের মধ্যে এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য বিএফআইইউকে অবহিত করবে।

(৬) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত রেজুলুশন ১৩৭৩ (২০০১) এর আওতায় বিদেশী সরকার বা বিদেশী এফআইইউ এর অনুরোধে বিএফআইইউ হতে প্রেরিত বা উক্ত রেজুলুশনের আওতায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার সাথে ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোন সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করার জন্য ব্যাংক নিয়মিত লেনদেন মনিটর করবে এবং প্রয়োজনে লেনদেন পর্যালোচনা করবে। তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার কোন ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে পরবর্তী কর্ম দিবসের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য বিএফআইইউকে অবহিত করবে।

(৭) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ব্যাংক উক্ত লেনদেন সম্পাদনের পূর্বে লেনদেনের সাথে সম্পর্কিত পক্ষসমূহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন রেজুলুশনের আওতায় বা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক

তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তা কিনা তা চিহ্নিত করার জন্য লেনদেনটি পর্যালোচনা করবে।

তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন ব্যক্তি বা সত্তার সংশ্লিষ্টতা চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত লেনদেনটি স্থগিত করে পরবর্তী কর্ম দিবসের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য বিএফআইইউকে অবহিত করবে।

১১। নিয়োগ ও প্রশিক্ষণঃ

১১.১ নিয়োগঃ

মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়নের ঝুঁকি নিরসনের ব্যাংক তাদের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া (Screening Mechanism) অনুসরণ করবে যাতে কোন স্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যাংক এ ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন না হয় ।

১১.২ প্রশিক্ষণ- ব্যাংক কর্মকর্তাঃ

(১) মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করার প্রত্যেক ব্যাংক তাদের সকল কর্মকর্তাদের মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবে ;

(২) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহ তাদের ক্যাশ পয়েন্ট/এজেন্টদের (অথবা অন্য যে কোন নামেই অভিহিত হোক না কেন) জন্য নিয়মিত মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে

অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবে;

(৩) ব্যাংক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য ও দলিলাদি সংরক্ষণ করবে।

১১.৩ শিক্ষণ- ব্যাংক গ্রাহকঃ

(১) ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের হিসাব খোলার প্রাক্কালে যাচিত বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশ ও দলিলাদি দাখিলের যৌক্তিকতার বিষয়ে গ্রাহককে অবহিত করবে এবং মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধির সময় সময় লিফলেট বিতরণ এবং প্রতিটি ব্যাংক শাখার দৃশ্যমান স্থানে এ বিষয়ক পোস্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করবে।

(২) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যাংকসমূহ মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধির সময় সময় লিফলেট বিতরণ এবং প্রতিটি ক্যাশ পয়েন্ট/এজেন্ট অফিসের দৃশ্যমান স্থানে পোস্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করবে।

(৩) এছাড়া Corporate Social Responsibility (CSR) এর আওতায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে এ বিষয়ক সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, তথ্যচিত্র ইত্যাদি প্রচারের ব্যবস্থা করবে।

১২। রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় তথ্য/দলিলাদি সংরক্ষণঃ

(১) গ্রাহকের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য বা দলিলাদি হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ হতে অন্যূন ৫(পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে;

(২) গ্রাহকের KYC সহ CDD প্রক্রিয়া সম্পাদনকালে সংগৃহীত সকল তথ্য ও দলিলাদি, হিসাব সংক্রান্ত দলিলাদি, ব্যবসায়িক পত্র যোগাযোগ এবং কোন গ্রাহকের বিষয়ে কোন প্রতিবেদন প্রণীত হলে এ সকল তথ্যাদি/দলিলাদি গ্রাহকের হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ হতে অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

(৩) Walk-in Customer কর্তৃক লেনদেন সংঘটিত হওয়ার তারিখ হতে অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত লেনদেন সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য বা দলিলাদি সংরক্ষণ করতে হবে।

(৪) সংরক্ষিত তথ্যাদি অপরাধ কার্যক্রমের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দালিলিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে হবে।

(৫) ব্যাংক গ্রাহকের KYC সহ CDD প্রক্রিয়া সম্পাদনকালে গৃহীত সকল তথ্য ও দলিলাদি এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য ও দলিলাদি বিএফআইইউ এর চাহিদা বা নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করবে।

১৩। তফসিলী ব্যাংকসমূহের জন্য ইতোপূর্বে জারীকৃত নিম্নোক্ত সার্কুলার/সার্কুলার লেটারসমূহের নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

সার্কুলার/ সার্কুলার লেটার নং         জারীর তারিখ                                             বিষয়

AML Circular No. 10 dated 16.02.2006 এর শুধুমাত্র Cash Transaction Report Form নগদ লেনদেন রিপোর্ট দাখিলকরণ প্রসঙ্গে।

AML Circular No. 22 dated 21.04.2009                                                       সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ জারী প্রসঙ্গে।

BFIU Circular No. 02 dated 15.03.2012                                                      মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ ও সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০১২ জারী প্রসঙ্গে।

BFIU Circular No. 07 dated 14.07.2013                                                      সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন)আইন, ২০১৩ জারী প্রসঙ্গে।

BFIU Circular No. 01 dated 30.01.2012                                                      বিএফআইইউ নামকরণ প্রসঙ্গে।

১৪। অনুচ্ছেদ ১৩ এ উল্লিখিত সার্কুলার ও সার্কুলার লেটার ব্যতীত এ মাস্টার সার্কুলার জারীর পূর্বে তফসিলী ব্যাংকসমূহের জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ বা বিএফআইইউ কর্তৃক জারীকৃত অন্য সকল সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের নির্দেশনা এ মাস্টার সার্কুলারের নির্দেশনা দ্বারা প্রতিস্থাপিত মর্মে বিবেচিত হবে।

এ সার্কুলারের নির্দেশনাসমূহ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *